নাঈমকে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতো না মুন্সীগঞ্জ পুলিশ

তানজিল হাসান, মুন্সীগঞ্জ
১৭ মে ২০১৭, ২২:৩৬আপডেট : ১৭ মে ২০১৭, ২৩:০২

নাঈম আশরাফ

বনানীর দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফকে গ্রেফতারের সময় এতটাই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল যে স্থানীয় পুলিশের সহায়তাও নেয়নি পুলিশ সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা। তবে অভিযানের মাত্র এক ঘণ্টা আগে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারকে শুধু অবহিত করা হয়েছিল তার জেলায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১৭ মে) রাত পৌনে ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বনানীর দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি নাঈম আশরাফকে গ্রেফতারের আগে এ বিষয়ে কোনও তথ্য জানতো না জেলা পুলিশ। অভিযানটি পরিচালনার মাত্র এক ঘণ্টা আগে রাত পৌনে আটটার দিকে আমাকে পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়, জেলায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তারা স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নেবে। তবে তারা কোনও সহায়তা নেননি। অভিযান শেষে শুধু জানতে পারি, নাঈমকে লৌহজং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় পুলিশের কেউ আসামিকে দেখেনি। অভিযানটি কারা পরিচালনা করেছেন সে সম্পর্কেও আমরা অবহিত নই। ’

এদিকে, লৌহজং থানার ওসি মো. আনিচুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিল বনানীর দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওই বাসা থেকে আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’

লৌহজং সার্কেলের এএসপি মো. সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রেফতারের অভিযানের ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে থানার ওসি জানত। আমি এইমাত্র ওসির সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ঢাকা পুলিশের একটি দল অত্যন্ত গোপনে অভিযান পরিচালনা করে চলে গেছে। অভিযানে নাইম আশরাফকে গ্রেফতার করা হয়।’
এএসপি সাইফুল আরও বলেন, ‘আসামী এখানে কতদিন ধরে অবস্থান করছি, তা আমাদের জানা নেই। সম্ভবত মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালানো হয়। সত্যি বলতে, অভিযানে কতজন পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছে কিংবা তারা অভিযানের সময় ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল নাকি সাদা পোশাকে ছিল, সেসব তথ্যও বলতে পারব না।’

বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের মামলার অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দুই নম্বর আসামি নাঈমের প্রকৃত নাম আব্দুল হালিম। সিরাজগঞ্জের সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের একজন দিনমজুরের ছেলে সে। এসএসসি পরীক্ষার পরই সে গ্রাম ছাড়ে। নিজের নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মামলার চার আসামি গ্রেফতার হওয়ার পরও নাঈমের গ্রেফতার না হওয়ার পেছনে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভিআইপিদের প্রভাব থাকতে পারে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন েএক পুলিশ কর্মকর্তা। গ্রেফতার না হওয়া নাঈমের গুরুত্বও বাড়ছিল তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ মে) আলোচিত এই মামলার পাঁচ আসামির অন্যতম দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সোমবার (১৪ মে) সন্ধ্যার পর রাজধানীর নবাবপুর ও গুলশান এলাকা থেকে যথাক্রমে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও বডিগার্ড রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করা করা হয়।

উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

/টিআর/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক