ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা বেহাল। রাস্তায় রাস্তায় ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর কোথাও কার্পেটিং উঠে সড়ক চেনারই উপায় নেই। এসব সড়কে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। কোনও কোনও রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
নগরীর বড়পুল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, ‘বৃষ্টিতে রাস্তায় ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এসব রাস্তায় রিকশা পর্যন্ত চলতে চাই না। ফলে অফিসে যেতে গাড়ি পাওয়া কষ্টকর হয়ে ওঠে।’
মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা আগে থেকেই নাজুক। আর বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এখন এই সড়কে আরও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সময় গাড়ি গর্তে পড়ে যায়। ফলে যাত্রীরা আঘাত পান। আমি নিজেও কয়েকবার আঘাত পেয়েছি।’
গত ২৯ মে বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরা চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে। এর প্রভাবে ওইদিন সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। থেকে থেকে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি হয় আরও চারদিন। এতে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে নগরীর মহেশখালে নির্মিত বাঁধের কারণে পানি সরতে না পারায় নগরীর হালিশহর, গোসাইলডাঙা, আগ্রাবাদ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ২/৩ দিন পানিবন্দি থাকায় এসব এলাকার সড়কগুলোতে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলাবদ্ধতায় নগরীর বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, মোহরা, শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক, কালামিয়া বাজার, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর, বড়পোল, পোর্ট কানেক্টিং রোড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ সড়ক এখন ক্ষত-বিক্ষত। সড়কে সৃষ্ট বড় বড় গর্তের কারণে এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু এ সড়কগুলো নয়, জলাবদ্ধতায় নগরীর অনেক অলি-গলির সড়কেও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সকালে নগরীর মুরাদপুর ও আগ্রাবাদ হালিশহর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এবড়োথেবড়ো রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটা সম্ভব না। এর মধ্যেই ওয়াসা ও কর্ণফুলী গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার উন্নয়নকাজের খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তার অবস্থা অনেক নাজুক। এছাড়া আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা রূপে অর্বিভূত হয়েছে। যানবাহনগুলো চলছে হেলে দুলে। চলতে গিয়ে মাঝে মাঝে যানবাহন বিকল হয়ে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
নগরীর ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা ও মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা বলেন, ‘বিকেলে বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে ইপিজেড মোড় আসতে গিয়ে এক্সেস সড়কে দেখি একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছে। এতে ওই সড়কে এক কিলোমিটারের বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়।’
সড়কে সৃষ্ট এসব খনাখন্দে নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর অধিকাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি নিজেও সড়কগুলো পরিদর্শন করেছি। আমাদের পাঁচটি টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সড়ক মেরামতের কাজ করছে। বড় সড়কগুলো মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হচ্ছে। ভারি বৃষ্টি না হলে আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত সড়ক মেরামত করে যাচ্ছি কিন্তু বৃষ্টিতে এর সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পুনরায় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
/এসএনএইচ/








