সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করে স্বামী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১১ জুন) দিনগত রাতে উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গুরুতর আহত স্ত্রীর নাম ইরানি বেগম, তাকে প্রথমে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির নাম আক্তার আলী মোড়ল (৪০)। তিনি ঘোনা গ্রামের গহর আলী মোড়লের ছেলে।
ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ঘোনা এলাকার) সদস্য নিরোজা ইয়াসমিন জুলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে আক্তার আলী প্যারালাইজড ছিলেন। এক রকম বেকার হয়ে থাকা আক্তারের সঙ্গে স্ত্রী ইরানির নিয়মিত ঝগড়া লেগেই থাকতো। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের ভিজিডি-ভিজিএফ’র কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জুলি জানান, রবিবার সারাদিন আক্তার আলী ও ইরানির মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলে। পরে রাতে ইরানিকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে আত্মহত্যা করেন আক্তার।
জুলি আরও জানান, আক্তার মোড়ল দুই কন্যা সন্তানের জনক। ঘটনার সময় তারা কেউই বাসায় ছিল না।
গুরুতর আহত হওয়ায় ইরানি বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জানান, রবিবার দিনগত রাতে আক্তার আলী মোড়ল তার স্ত্রী ইরানি বেগমকে ঘুমন্ত অবস্থায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। এরপর নিজে বাড়ির সামনে একটি আম গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্ত্রীর চিৎকারে পাড়া-প্রতিবেশিরা ছুটে গিয়ে ইরানিকে প্রথমে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ওসি আরও জানান, পুলিশ আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
/এমএ/এআই








