নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দায় শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জাহাজ এমভি আকরাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। রবিবার (৩ জুলাই) বিকালে জাহাজটি পরিদর্শন করে বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন এ তথ্য জানান। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর অস্ত্র ও গোলবারুদ বহনের সময় মুক্তিযোদ্ধারা চাদঁপুরের ডাকাতিয়া নদীতে জাহাজটি ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।
একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, রবিবার (৩ জুলাই) বিকালে সংস্থার কর্মকর্তারা জাহাজটি পরিদর্শন করেন।এছাড়া, যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য জাহাজটি বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে হস্তান্তরের জন্য নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান রবিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র দেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ঈদের ছুটির ফাঁকে প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র ওই জাহাজটি কেটে বিক্রির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর গোলাবারুদ বহনকারী জাহাজ এমভি আকরামকে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। জাহাজটি ১৯৬৫ সালে হল্যান্ডের রটারডাম বন্দরে নির্মিত হয়। ইউনাইটেড ট্রেডিং করপোরেশন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক অব পাকিস্তান জাহাজটির মালিকানায় ছিল। স্বাধীনতার পর এটি তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের অধীনে চলে যায়।
২০০৮ সালের মাঝামাঝি বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এলাকার মোক্তার হোসেন শিল্প ব্যাংক থেকে নিলামে জাহাজটি কিনে নেন। এরপর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর ডাকাতিয়া নদী থেকে জাহাজটি তোলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে শাহেন শাহ’র মালিকানাধীন ডকইয়ার্ডে এনে রাখা হয়। পরে জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠলে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে জাহাজটি ওই ডকইয়ার্ডে রক্ষিত রয়েছে।
২৯ জুন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী নূরে আলম ও জসিম নামের দুই ব্যক্তি জাহাজটি কাটা শুরু করে। এ ঘটনায় মোক্তার হোসেন বন্দর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গিয়ে জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেয়।
/এএম/এমএ/








