উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসনের দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নতুন করে ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ৭ আগস্ট এ মামলার প্রতিবেদন দিতে বলেছেন ঢাকার সিনিয়র মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শাহিনুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আনোয়ারুল কবির বাবুল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল জানান, আজ (মঙ্গলবার) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন উপস্থাপন না করায় আদালত নতুন করে তারিখ ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে ও এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনায় গত ২৭ মে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জাবি প্রশাসন। ২৮ মে গ্রেফতারকৃত ৪২ শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান সবার জামিন মঞ্জুর করে আজ (৪ জুলাই) শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী আজ সকালে আদালতে হাজিরা দেন ৫৪ শিক্ষর্থী।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে ভোরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসচাপায় জাবির নাজমুল হাসান রানা ও মেহেদী হাসান আরাফাত নামে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে পরদিন ২৭ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। এসময় কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ উঠে। ওইদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেটে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও অন্তত ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই দিন মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবন প্রাঙ্গণ থেকে ৪২ শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায় আশুলিয়া পুলিশ। পরে প্রশাসনের মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
/এমএ/







