‘সরকার আমাদের যেখানে নিয়ে যাবে, সেখানেই যাবো’

জিয়াউল হক, রাঙামাটি
১৬ জুলাই ২০১৭, ১৮:৫২আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৭, ২১:২১

‘সরকার আমাদের যেখানে নিয়ে যাবে, সেখানেই যাবো’

‘আমাদের তো বাড়িঘর নাই। তাই সরকার আমাদের যেখানে নিয়ে সেখানেই যাব, শুধু আগের জায়গায় আর ফিরতে চাই না। তবে শহরের আশেপাশে পুনর্বাসন করলে ভালো হয়, তা না হলে না খেয়ে মরতে হবে।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাঙামাটি সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মো. হেমায়েত।

গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর সব কিছু হারিয়ে হেমায়েত আশ্রয়কেন্দ্রে এস উঠেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ঘর ছিল পশ্চিম মুসলিম পাড়ায়। ১০ বছর আগে কবির সওদাগরের কাছ থেকে এই জায়গা কিনি। দুই ছেলে -তিন মেয়ে আর নাতি-নাতনিসহ আমার আট জনের সংসার। দিন মজুর আর শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন তো কাজও নাই।’

তিনি বলেন, ‘রাত ২টার দিকে আমার রান্না ঘরটি যখন পড়ে যায়, তখন বুঝতি পারি পরিস্থিতি ভালো না। তখন ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বুঝতে বুঝতে দেখি মূল ঘরেও ফাটল ধরেছে। তখন আর দেরি না করে। সবাই ঘর থেকে একটু দূরে মাঠে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। তার কিছুক্ষণ পর এসে দেখি ঘর ভেঙে মাটিতে মিশে গেছে। সারাদিন বৃষ্টি ছিল। সেই বৃষ্টিতে আমরা সবাই ভিজেছি। কারণ কোথায় যাবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না। এখন ঘর ভাড়া করে থাকার অবস্থায়ও নাই। টাকা পয়সা, কাম-কাজ কোনও কিছুই নাই। একদম বেকার।

একই আশ্রয়কেন্দ্রের নাজমা বেগম বলেন,‘আমাদের বাড়িঘর ভাঙেনি কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আশ্রয় কেন্দ্রে থাকি। ভেদভেদী এলাকার রূপনগরে থাকতাম। আমাদের এলাকায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে। আমারা আশ্রয়কেন্দ্রে আছি আর ওরা যে স্কুলে পড়ে সেখানেও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে তাই স্কুল বন্ধ। ওদের পড়ালেখা হয় না। ব্র্যাক থেকে বই দিয়েছে। কিন্তু এখানে এতোগুলো বাচ্চা কেউ পড়তেও চায় না। তারপরও চেষ্টা করছি। না হলে তো ওদের জীবন থেকে একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে। যতদ্রুত সম্ভব বাড়িতে ফিরতে চাই।’

ভেদভেদী জুনিয়ার স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী নুর জাহান বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা চলছে। স্কুলে এক পাশে আশ্রয়কেন্দ্র অন্য পাশে আমাদের পরীক্ষা চলছে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার কারণে যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেভাবে নিতে পারছি না। আগে তো প্রাইভেট পড়তাম। যেগুলো বুঝতে পারতাম না সেগুলো স্যার বুঝিয়ে দিতেন। এখন তো প্রাইভেট পড়া যাচ্ছে না। তারপরও পরীক্ষা মোটামুটি দিচ্ছি।’

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য একটি টেকসই পুনর্বাসন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এগোতে হবে। এই জায়গাগুলো জরিপ ও পরিদর্শন করে একটি টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছি। ভবিষ্যতে আর পাহাড় ধসের ঘটনায় কোনও মৃতদেহ দেখতে চাই না। আগামী ১৬ জুলাই জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এর কাজ হলো প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা। এরপর আমরা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবো।’

গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষণের কারণে রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধস। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাহাড় ধসে ১২০ জন প্রাণ হারিয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৫০০ পরিবার। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩১টি বাড়ি, আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০। বাকিগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ধসের শিকার পরিবারগুলোর বেশির ভাগই এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। এগুলোতে খাবারের জোগান দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিএম কলেজে সংঘর্ষ, আহত ৬

 






 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম