চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সোমবার (৭ আগস্ট) শুরু হওয়া আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রথম দিনের বিষয় ছিল ইংরেজি। যথারীতি শিশু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাও দিতে যায়। কিন্তু তারা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, প্রশ্নই বুঝতে পারেনি পরীক্ষার হলে গিয়ে। কারণ তাদের হাতে আসা প্রশ্নপত্রই ছিল ভুলে ভরা। কী কারণে প্রশ্নপত্রে এত ভুল হলো, তা নিয়ে সন্তোষজনক কোনও জবাব দিতে পারছেন না কেউই।
জানা গেছে, সোমবার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার শুরুর দিনের কয়েকটি শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নপত্রেই ছিল ভুল। বিশেষ করে এর পরিমাণ বেশি ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নপত্রে। তাছাড়া তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রেও বেশকিছু ভুল ছিল বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের। তাছাড়া, সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকরাও স্বীকার করে নিয়েছেন ভুল প্রশ্নে ছাপানো প্রশ্নপত্রের কথা। এটা নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন তারা।
সোমবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে। ওই প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় প্রশ্নতে একটি ইংরেজি বর্ণ দিয়ে এর আগের ও পরের বর্ণ লিখতে বলা হয়েছে। এর একটি অংশে দেওয়া হয়েছে ইংরেজি ‘এ’ বর্ণটি। একই প্রশ্নপত্রের চার নম্বর প্রশ্নে ছবি দেখে ফাঁকা ঘরে সঠিক বর্ণ লিখে পূরণ করতে বলা হয়েছে। এই প্রশ্নে ছবি দেওয়া হলেও বর্ণ লেখার জন্য ফাঁকা ঘরই রাখা হয়নি। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন করতে যেসব বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব বাক্যেও গঠন ও যতি চিহ্ন ব্যবহারে রয়েছে ভুল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যেভাবে পরীক্ষা নেবে, আমাদের সেভাবেই পরক্ষা নিতে হয়। এতে আমাদের করার কিছুই নেই।’
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বরুপ দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন চেয়ে নেয় উপজেলা শিক্ষা অফিস। সেখানেই প্রশ্ন যাচাই-বাছাই হয়, চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করে সেখান থেকেই সব ধরনের ভুল ঠিক করে দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষা অফিসই সরাসরি প্রশ্ন প্রেসে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু এই প্রশ্নে কিভাবে এত ভুল থেকে গেল, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এমন প্রশ্ন হলে তো আমরা শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারব না।’
জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তো বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়েই প্রশ্ন করিয়েছি। তা সত্ত্বেও কেন প্রশ্নে এত ভুল হলো তা বুঝতে পারছি না।’
আরও পড়ুন-
নির্যাতিত সেই মা-মেয়ে এখন রাজশাহীতে
আবুয়া নদীতে সেতুর নির্মাণ কাজ ৯ বছর ধরে বন্ধ
মামলার প্রয়োজনে নিরাপত্তা দিয়ে মা-মেয়েকে বগুড়া নেওয়া হবে: পুলিশ
/টিআর/








