পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়া, তীব্র ঘূর্ণি স্রোত ও ফেরি স্বল্পতার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ব্যহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। নদীতে ঘূর্ণায়মান স্রোত থাকায় ফেরি পল্টুনে ভেড়াতেও সময় বেশি লাগছে। এ কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের লাইন। তীব্র গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের।
বিআইডাব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণি স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপারে সময় লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। বাড়তি সময় লাগার কারণে দুই পারে কমেছে ফেরি পারাপারের সংখ্যা। তাই দৌলতদিয়া ঘাটে বেড়েছে যানবাহনের জট।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে দাঁড়িয়ে আছে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। দিনে রোদের তীব্রতা আর রাতে প্রচণ্ড গরমে চালক, হেলপারসহ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। পরিবহনের অপেক্ষায় যানবাহনে থাকা প্রাণী ও কাঁচামালজাতীয় পণ্যও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বাগেরহাট থেকে ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন বাসের যাত্রী মতিয়া ফেরদৌস শ্যামলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে এসে দেড় ঘণ্টা হলো বসে আছি। এখনও বুঝতে পারছি না আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। এখানে অনেক সময় বসে থাকতে আসলেই অনেক কষ্ট হয়। ঢাকায় যাচ্ছি ডাক্তার দেখানোর জন্য। কিন্তু ঘাটেই তো সময় চলে যাচ্ছে। আর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে।’
পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী সাকুরা বাসের যাত্রী ডা. মজিবুর রহমান বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে সংকট লেগেই থাকে। কখনও ফেরির সংকট, কখনও ঘাটের অবস্থা ভালো না, কখনও নদীতে স্রোত বেশি। একটা না একটা জটিলতা থাকেই। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
মুরগি নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেওয়া ট্রাকচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাতক্ষীরা থেকে মুরগি নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরির অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না। এদিকে গরমে মুরগি মারা যাচ্ছে। এখানে ঘাটের জ্যাম ঠিকমতো ক্লিয়ার করা হয় না। এই ঘাটে এই জ্যাম সবসময় লেগেই থাকে। রাতে যদি ১০টায় এসে পৌঁছাই, ঘাট পার হতেই ভোর হয়ে যায়।’
খুলনার বাগেরহাট থেকে ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন বাসের চালক মো. সেলিম বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির সমস্যা। এজন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। ট্রাকগুলো সব আগে পার হয়ে যায়। আর যাত্রীরা রোদ-বৃষ্টি-গরমের মধ্যে ঘাটে বসেই থাকে।’
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে ঢাকার পথে রওনা দেওয়া সুবর্ণ পরিবহনের চালক মো. টোকন বলেন, ‘ঘাটে এলেই শুনি, ফেরি নাই। ফেরির আশায় বসে থাকতে থাকতে আমরা অস্থির। এত গাড়ির চাপ, তবুও কেন এরা ফেরির সংখ্যা বাড়ায় না, সেটাই বুঝতে পারি না।’
নদীতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ার কারণে ফেরি পারাপারে বেশি সময় লাগার কথা স্বীকার করছে বিআইডব্লিউটিসি। সংস্থাটির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে যেখানে পারাপার হতে সময় লাগত আধাঘণ্টা, এখন পানির স্রোতের কারণে এক ঘণ্টাতেও পার হওয়া যায় না। এ কারণে ফেরির ট্রিপ কম হচ্ছে। প্রতিদিনই কিছু কিছু গাড়ি থেকে যাচ্ছে। যানহনের লাইনও তাই বাড়ছে।’
শফিকুল ইসলাম জানান বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৫টি ফেরি আছে। এর মধ্যে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। শুধু বীরশ্রেষ্ঠ মতিয়র রহমান ফেরিটি চলছে না। ফেরিটি সপ্তাহখানেক হলো পাটুরিয়া ওয়ার্কশপে রিপেয়ারিংয়ে রয়েছে। শফিকুল বলেন, ‘আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মতিয়র রহমান ফেরিটি অপারেশনে আসবে। আগের থেকে ট্রিপ কমে যাওয়ায় গাড়ি কম পার হচ্ছে। আরও দুয়েকটি ফেরি অপারেশনে এলে গাড়ির দীর্ঘ সারি আর থাকবে না।’
আরও পড়ুন-
বাম্পার ফলন, তবু মাগুরায় মরিচের দাম বেড়েই চলেছে
ওরসকে কেন্দ্র করে শাহজালাল মাজারের নিরাপত্তা জোরদার
/টিআর/








