কুষ্টিয়ায় বিষমুক্ত লাউ চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। অন্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম, বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ জেলার কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লাউ চাষ। অন্যদিকে, লাউ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সহযোগিতা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের হামিদুল স্বল্প পরিসরে লাউয়ের আবাদ শুরু করেন। প্রথম বছরে লাউ বিক্রি করে ভালো মুনাফা পান তিনি। সেই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এ বছর তিন বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে লাউ ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে স্বল্প খরচে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে নিরাপদ সবজি উৎপাদন হচ্ছে অন্যদিকে বেঁচে যাচ্ছে কিটনাশক খরচ।
কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে তিনি তিন বিঘা জমি থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। তার আশা আরও ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন এই ক্ষেত থেকে। অন্য ফসল আবাদে যে পরিমান সার লাগে তার চেয়ে অনেক কম সার প্রয়োগ করেই লাউয়ের ভালো ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য ফসলের ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়াসহ অন্যান্য পরিচর্যায় বেশ টাকা খরচ হয়। কিন্তু লাউগাছ একবার মাচায় উঠে গেলে আগাছা দমনে কোনও নিড়ানী লাগেনা। এ কারণেও লাউ চাষ তুলনামূলক লাভজনক একটি ফসল।
এদিকে, হামিদুলের এ সাফল্য থেকে এলাকার আরও বেশ কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে লাউয়ের চাষ করেছেন। তাদের একজন আব্দুল জলিল জানান, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে লাউয়ের চাহিদাও অনেক। ইতিমধ্যে তিনি ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। কিটনাশক ব্যবহার না করে পোকা দমনের নতুন পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন তিনি।
লাউ চাষী মুনছের শেখ জানান, হামিদুলের সাফল্য দেখে এ বছর এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন তিনি। আগামীতে তিনি আরও বেশি জমিতে লাউ চাষের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
স্থানীয় লাউ চাষী কাদের মোল্লা জানান, প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের সবজী চাষ করলেও সবজির বাজার দর ভালো না থাকায় প্রতিবার আশাহত হয়েছেন। তবে এবার ১০ কাঠা জমিতে মাচা করে লাউ চাষ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনিও আগামীতে বেশি জমিতে লাউ চাষে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, লাউচাষ মূলত ৯০ দিনের। এই চাষে ১০ কাঠা জমি থেকে তিনি প্রতি সপ্তাহে তিনশ পিছ লাউ তুলেছেন। জমি থেকেই বিভিন্ন স্থানের পাইকারী ক্রেতাদের কাছে বাজার দরের তারতম্যভেদে প্রতি পিচ লাউ ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এ বছর লাউ চাষের আবাদে সাফল্য পাওয়ায় আগামীতে অন্যান্য সবজি আবাদের পাশাপাশি ২ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করবেন।
মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বনাথ পাল জানান,এ এলাকার কৃষককে ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শেখানোর পর তাদের মাঝে সেটি বিতরণ করা হয়। ওই কৃষকরা লাউ গাছে ফুল আসার আগেই ক্ষেতে ফাঁদগুলো স্থাপন করেন। ফলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে এই ক্ষেতগুলো রক্ষা পায়। এ কারণেই এসব ক্ষেতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। এদিকে, বিষমুক্ত লাউ আবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার কাজ করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন জানান, পোকা মাকড় দমনে নানা ধরণের কিটনাশক ব্যবহারে দেশে উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্য ঝঁকিপূর্ণ। এ কারণে কৃষি বিভাগ গৃহীত কৃষি প্রণোদনা প্রকল্পের আওতায় তারা স্থানীয় কৃষকদের লাউসহ অন্যান্য সবজি বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। এই উদ্যোগ মিরপুর উপজেলার কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
তিনি আরও জানান, এ বছর মিরপুর উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে লাউ আবাদ হয়েছে। আগামী বছর আরও ৫টি উপজেলায় লাউয়ের আবাদ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
/এসএনএইচ/








