নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ‘গরু চোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে চার জন নিহতের ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার চরজব্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল বাদী হয়ে হত্যা ও স্থানীয় সহিদুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে চুরির চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দুইটি দায়ের করেন। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হত্যা মামলায় পুলিশ অজ্ঞাত ৩০০/৪০০ জনকে ও চুরির চেষ্টায় নিহত চার জনসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামে চার জন নিহতের ঘটনা ঘটে।
গণপিটুনিতে নিহত চারজনের মধ্যে পুলিশ তিন জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এরা হলো সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ্ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (২৬), নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের আলী আহমদ ওরফে আলী ডাকাতের ছেলে নিজাম উদ্দিন ওরফে নিজাম ডাকাত (৩০ ও খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি এলাকার এনায়েত উল্যাহর ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)। এনায়েত উল্যাহ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন গণপিটুনিতে আরও দুইজন আহত হন। তারা হলেন সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (২২) ও একই গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩০)। তাদের দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি শুক্রবার দুপুরে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তাদের মধ্যে সন্ধ্যার দিকে খাগড়াছড়ির কামাল হোসেন ও সদর উপজেলার নিজাম উদ্দিন ওরফে নিজাম ডাকাতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর দুইজনের মধ্যে সুবর্ণচরের জাকিরের মরদেহ পরিবার না নেওয়ায় এবং অন্যজনের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় জেলা শহরের সোনাপুরস্থ সরকারি গণকবরে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়।
/এনআই/
আরও পড়ুন:








