দুই দফায় আলটিমেটামের পরও সিরাজগঞ্জ (ঢাকা-রাজশাহী, নগরবাড়ি-হাটিকুমরুল-বগুড়া এবং হাটিকুমরুল-বনপাড়া-নাটোর) মহাসড়কের খানা-খন্দ সংস্কার কাজ শেষ হয়নি। সংস্কারের জন্য বেঁধে দেওয়া ২৫ আগস্টেও কাজ শেষ করতে পারেনি স্থানীয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ। কোরবানির ঈদের আগে উত্তরাঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে সেতুমন্ত্রীর দেওয়া ১০ দিনের প্রথম আলটিমেটামের পর দ্বিতীয় দফায় সওজ অধিদফতর সময় বাড়িয়ে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এবার ২৮ আগস্টের মধ্যে জেলার সবকটি মহাসড়ক সংস্কার করার পর চলাচলের উপযোগী হবে বলে দাবি সওজ প্রকৌশলীদের।
গত ৯ আগস্ট সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে জেলার তিনটি মহাসড়কের খানা-খন্দ মেরামত ও সংস্কারে সওজ প্রকৌশলীদের ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেন। সেই আল্টিমেটাম ব্যর্থ হওয়ার আগেই সওজ অধিদফতর এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক মেরামতে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় দফা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু সিরাজগঞ্জের ঢাকা-রাজশাহী, নগরবাড়ি-হাটিকুমরুল-বগুড়া এবং হাটিকুমরুল-বনপাড়া-নাটোর মহাসড়কের মেরামত কাজের পর পর দুটি আল্টিমেটামই ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে মহাসড়কের বাস্তব অবস্থা দেখার পর সওজ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সঙ্গে আলাপকালে অপরাগতার কথা স্বীকার করেন। ব্যর্থতার জন্য একমাত্র বৃষ্টির পাশাপাশি বৈরি আবহাওয়াকেই দায়ী করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মোড় সংলগ্ন বনপাড়া-নাটোর অভিমুখে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দে ইট দিয়ে হেরিংবোন থেরাপি দিচ্ছেন। পাশের নগরবাড়ি-বগুড়া মহাসড়কের উল্লাপাড়ার শ্রীকোলা মোড় থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত ১১ কি.মি. অংশের খানা-খন্দ কাটিং মেশিন দিয়ে কেটে এবড়ো-থেবড়ো বিটুমিনের স্তর তুলে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে, হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের খানা-খন্দে যেখানে আগেই ইট দিয়ে মেরামত করা হয়েছে, সেখানেও পাথর ও বিটুমিন দিয়ে খণ্ড খণ্ড সিলকোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিকাদাররা। এছাড়া হাটিকুমরুল মোড় থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর দিকে নলকা সেতু পর্যন্ত প্রায় আড়াই কি.মি. অংশের কিছু কিছু স্থানে ইটের মেরামত করা কাজের কংক্রিট বের হয়েছে, সেখানে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে সিলকোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সওজের লোকজন। এছাড়া হাটিকুমরুল মোড়ের সঙ্গে নগরবাড়ি ও নাটোরের দিকে দুটি স্থানে চলমান মেরামত কাজ করতেও দেখা গেছে সওজকে।
এ সময় সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা যথেষ্ট আন্তরিক থাকলেও গত কদিনের বৃষ্টির কারণে দুটি ডেডলাইনের মধ্যে আমরা মেরামত কাজ শেষ করতে পারেনি। তারপরও আমরা আশাবাদি আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে জেলার সবকটি মহাসড়কেই অস্থায়ীভাবে মেরামত কাজ শেষ করতে পারবো। এরই মধ্যে উর্ধ্বতনরাও সরেজমিনে এসে দেখে গেছেন।
সিরাজগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাজহারুল হায়দার শুক্রবার বিকালে বলেন, ‘সড়ক ও সেতু মন্ত্রী আমাদেরকে গত ৯ আগস্ট ১০দিনের আলিমেটাম দিলেও বৃষ্টির কারণে আমরা সেটি যথাযথ পালন করতে পারিনি এটা সত্য। কিন্তু বাস্তবতাতো মানতে হবে। বৃষ্টির কারণে আমরা নাজেহাল হয়ে পড়েছি। তারপরও আমরা যথেষ্ট আন্তরিক। হাটিকুমরুল মোড় থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত মাত্র ১ কি.মি. নলকা সেতুর পশ্চিম পাড়ে কিছু অংশে কাজ বাকি আছে। উল্লাপাড়া সড়কে কাটিং কাজ চলছে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে।
রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশন বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সমস্যা ছিল হাটিকুমরুল মোড়ে। সেখানে আর বর্তমানে কোন সমস্যা নেই। বৃষ্টির কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হলেও রোদ থাকলে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে চলমান সংস্কার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। গত ৯ আগস্ট সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে জেলার তিনটি মহাসড়কের খানা-খন্দ মেরামত ও সংস্কার কাজে ৬ কোটি টাকা লোপাট ও নয়-ছয়ের অভিযোগে সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামালকে প্রত্যাহার করেন। এ সময়ে সওজ পাবনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশনকে শোকজ করেন।








