মাদারীপুরের কালিকাপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান আহাসান উদ্দিন ও বর্তমান চেয়ারম্যান এজাজ আকনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাত জন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংঘটিত এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান আহাসান উদ্দিন ও বর্তমান চেয়ারম্যান এজাজ আকন দু’জনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। স্থানীয় এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রবিবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল পর্যন্ত এই দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজনসহ মোট ১২ জন আহত হন। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া, সংঘর্ষের সময় দুইটি ঘরে লুটপাট করে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১৫ রাউন্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জহির আকন (৪০), সেলিম মাতুব্বর (৩৫), জসিম (৪০), শফিকুল আকন (৩০), কিসলু মাতুব্বর (৫৫), ইমরান মাতুব্বর (২৭), বাবুল মাতুব্বর (৫০), কাজল রেখা (৪৫), ইসমাইল মাতুব্বর (৬৫), ফারুক রারি (৫২), ইমারাত মাতুব্বর (১৯), জামাল মাতুব্বর (৩০),আবু কাশেম (২২), জয়নাল মাতুব্বর (২০) ও দবির সরদার (৪৩)। আহতরা দাবি করেছেন, ছয় মাস আগেও তাদের সাত জনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
বর্তমান চেয়ারম্যান এজাজুর রহমান আকন দাবী করেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হওয়া এই সংঘর্ষে তার কোনও সমর্থক বা গ্রুপ জড়িত নয়। নিজে মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে যুগ্ম সম্পাদক উল্লেখ করে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংঘর্ষে জড়িত সাবেক চেয়ারম্যানের গ্রুপটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা আওয়ামীবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’ এ বিষয়ে জানতে সাবেক চেয়ারম্যান আহাসান উদ্দিন বা তা সমর্থকদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দুই গ্রুপের সংঘর্ষের তথ্য স্বীকার করে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় তিনটি ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।’
আরও পড়ুন-
‘রাখাইন রাজ্যে ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা’







