লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা আলীমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মেহেদী হাসান সুমনকে ‘নৈতিক স্খলনে’র অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কলেজের পরিচালনা কমিটি। স্থানীয় উপজেলা ছাত্রলীগের লিখিত অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রীর ‘অনৈতিক’ সম্পর্কের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রভাষক মেহেদী হাসান। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে আলীমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগে যোগ দেন মেহেদী হাসান সুমন। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যাচ করে প্রাইভেট পড়াতেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান সুমনের কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাতে বলা হয়, প্রভাষক মেহেদী হাসান সুমন প্রাইভেট পড়ানোর নামে কৌশলে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করে থাকেন। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সঙ্গে ছাত্রীদের ‘অনৈতিক’ সম্পর্কের অভিযোগ চাউর হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলেজের গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেহেদী হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লালমনিরহাট-১ আসনের সাংসদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনকেও অবহিত করি। ২৫ তারিখে গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে (মেহেদী হাসান সুমন) সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন (২৬ সেপ্টেম্বর) ওই সিদ্ধান্ত জানিয়ে ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছে প্রভাষক সুমনের কাছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি সুমনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্যপ্রমাণ না পেলেও প্রতিবেদনে অভিযোগের আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদন ও গভর্নিং বডির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ‘নৈতিক স্খলনে’র কারণে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত ও তা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রভাষক মেহেদী হাসান সুমন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি একটি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার। বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানিয়েছি। এই বিপদ সাময়িক। একদিন নিশ্চয় সত্যের জয় হবে।’
সুমনের বাবা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাকও মনে করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। আর মিথ্যা হয়ে থাকলে যারা আমার ছেলেকে হেয় করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাসান সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রভাষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখনও কোনও পক্ষ থেকেই কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন-
ফেনীর একরাম হত্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য
বঙ্গবন্ধুর বদলে এমপির নামে কলেজ: আ.লীগের দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য








