বিএনপি বিবৃতি নির্ভর একটা পার্টিতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পাশে বিএনপিকে দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে তারা ফটোসেশন করার জন্য রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়েছে। দলটি বিবৃতি নির্ভর একটা পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তাদের নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে। তিনি কবে ফিরবেন তা বিএনপিওয়ালারা জানেন না। তাই বিএনপিতে হতাশা বিরাজ করছে।’ সোমবার (০৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউটের আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত নেতা আতাউর রহমান কায়সারের সপ্তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনের জন্য তারা প্রধান বিচারপতির ছুটি চাওয়াকে পর্যন্ত ইস্যু করতে চায়। ইস্যুর খোঁজে তারা ব্যস্ত। তাদের আন্দোলনের ডাকে জনগণ সাড়া দেয় না। কখনও ঈদের পর, কখনও চাঁদের পর, কখনো কোরবানির পর আন্দোলন শুরু হবে বলে তর্জন গর্জন করে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে নন্দিত। শান্তিকামী ও উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে চলছে। তাই আজ মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জিডিপি বেড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে বহুগুণ। জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছে। আগামী নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে। তথাকথিত সহায়ক সরকার বিএনপির মনগড়া কথা। পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে যে নিয়মে নির্বাচন হয় সেই নিয়মে বাংলাদেশেও আসন্ন নির্বাচন হবে।’
আতাউর রহমান কায়সার সর্ম্পকে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের প্রশ্নে কখনও আপোষ করেননি। সামরিক শাসকরা তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। তিনি আপোষ করলে সে সময় মন্ত্রী হতে পারতেন। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তিনি যা পেয়েছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন। কোনও সময় তার মধ্যে না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পায়নি। ১/১১ এর সময় তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাবিহা মুছা এম.পি, মরহুমের কন্যা ও সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়েশা খান, মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এ কে এম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কায়সার ভায়ের সঙ্গে আমাদের বহু স্মৃতি আছে। তাকে আমরা সব সময় রাজপথে পেয়েছি। তিনি বিশেষ কোনও গ্রুপ বা কোন্দলে কখনো লিপ্ত ছিলেন না। অত্যন্ত সদালাপি ও বিনয়ী ছিলেন। একই সঙ্গে আদর্শের প্রশ্নে অনমনীয়ভ ও আপোষহীন ছিলেন।
এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনেকেই দুঃসময়ে বেঈমানী করেছে কিন্তু আতাউর রহমান কায়সার কোনদিন নীতি আদর্শের প্রশ্নে বেঈমানী করেননি। রাজনীতিবিদ এবং কুটনীতিক হিসেবে তিনি সাফল্য দেখিয়েছিলেন।’
মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আতাউর রহমান কায়সার এক বনেদী পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাকে বঙ্গবন্ধু যখন রাজনীতিতে নিয়ে আসেন এবং নমিনিশন দেন। তখনকার প্রেক্ষাপটে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা প্রমাণ পাই বঙ্গবন্ধু যথার্থ কাজটিই করেছিলেন। কায়সার ভাই আজীবন দলের একজন বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।’
সভাপতির বক্তব্যে নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কায়সার ভাই আমাদের অকৃত্রিম সুহৃদ ছিলেন। তার মৃত্যুতে যে শূণ্যতা তৈরি হয়েছে তা আর পূরণ হয়নি।’








