জেএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুইটি কক্ষে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা শুরু থেকেই বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আনার চেষ্টা করলেও তারা আমলে নেননি। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর তাদের চলতি বছরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও পরে তাদের উত্তর দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ওই দুই কক্ষের শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষকদের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। আর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে ওই পরীক্ষাকেন্দ্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবসহ অভিযুক্ত শিক্ষকরা স্কুলত্যাগ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রেজাউল বারী জানিয়েছেন, কেন্দ্র সচিব ঘটনাটি গোপন করেছেন। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বুধবার (১ নভেম্বর) সারাদেশে শুরু হওয়া জেএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে শহরের বার একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয় ও চিত্তরঞ্জন কটনমিল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ছিল নারায়ণগঞ্জ গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এই কেন্দ্রের ২০৮ ও ২০৯ নম্বর কক্ষে ২০ পরীক্ষার্থীর আসন ছিল। তাদের ২০১৬ সালের সিলেবাসে প্রণয়ন করা অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শুরু পাঁচ মিনিটের মাথায় শিক্ষার্থীরা কক্ষের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের বিষয়টি জানায়। তবে তারা এই অভিযোগে আমলে না নিয়ে উল্টো তাদেরকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই পশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে বলেন।
শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার করতে শুরু করলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব শীতল চন্দ্র দে ওই দুই কক্ষে গিয়ে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে পরীক্ষার্থীরা উত্তর দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় চাইলেও পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখিয়ে যথাসময়েই পরীক্ষা শেষ করা হয়।
ওই দুই কক্ষের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফারজানা, মারজিয়া, মনিরা, জোবেদা, আফসানা, সাগরিকা, জান্নাতুল ফেরদৌস, সোনিয়ার ভাষ্য, প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই আমরা বুঝতে পারি এটা আগের সিলেবাসের প্রশ্ন। কর্তব্যরত শিক্ষকদের আমরা বিষয়টি জানালেও তারা ভয় দেখিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন। এক ঘণ্টা পর আমাদের নতুন প্রশ্ন দেওয়া হলেও নতুন করে সময় দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন কমন থাকলেও আমরা সময়ের অভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।
শিক্ষার্থীরা বলছে, ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এলেও তারা সময়ের অভাবে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর করতে পারেনি। এখন জিপিএ-৫ পাওয়া তো দূরের কথা, তাদের অনেককেই পাস করা নিয়েই দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে।
অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার কারণে তাদের সন্তানদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। এ জন্য তারা দায়ী শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ওই দুই কক্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় এই পরীক্ষা নেওয়ার দাবিও জানান।
এদিকে, বিকালে গণমাধ্যমকর্মীরা খবর পেয়ে এ বিষয়ে জানার জন্য নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে গেল দেখতে পান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব শীতল চন্দ্র দেসহ অভিযুক্ত শিক্ষকরা অফিস রুমে তালা ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেছেন।
এসময় অভিভাবক লিটন মিয়া, সোবহান মিয়াসহ কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র দে’র সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। তিনি ভুল স্বীকার করে এর সমাধান করবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুলের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে গেছেন।
অভিভাবকরা জানান, এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কারাগারে যাওয়া এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিভাবকরা একাধিকবার মানববন্ধনসহ আন্দোলন করেছিলেন। অভিভাবকরা এই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রেজাউল বারী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কেন্দ্র সচিব আমাকে অবহিত না করে গোপন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন-
ফেনী বিএনপিতে কোনও গ্রুপিং নেই: জয়নাল আবদীন ভিপি
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভুলে পরীক্ষা দেওয়া হলো না মামুন ও শান্তির








