বগুড়ার গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ও দুই প্রভাষককে হাতুড়িপেটা করায় উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক (পরে বহিষ্কৃত) এটিএম নুরুল আমিন সুমন ও পাঁচ জন শিক্ষকসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিনের স্ত্রী সুলতানা জেসমিন বুধবার রাতে গাবতলী মডেল থানায় এ মামলা করেন। এজাহারে চাঁদা না পেয়ে কক্ষে ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত, ভাংচুর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিরা হলেন–এটিএম নুরুল আমিন সুমন, ছোট গোড়দহ গ্রামের আমজাদ হোসেন তরফদারের ছেলে লিমন, পুতুল সরকারের ছেলে মোহন, শহীদ জিয়া মডেল কলেজের ভূগোলের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, ইতিহাসের শিক্ষক কামাল মিয়া, ব্যবস্থাপনার প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান ও শরীর চর্চা শিক্ষক আবদুস সুলতান।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মঙ্গলবার সকালে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ‘ফ্লিল্মি স্টাইলে’ মোটরসাইকেলে কলেজে এসে ত্রাস সৃষ্টি করে। এরপর তারা অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিনের অফিসকক্ষে ঢুকে তাকে গালিগালাজ করে। এরপর ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা টেবিলের কাচ ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। অধ্যক্ষের গলায় সাইকেলের চেইন দিয়ে ফাঁস দিয়ে ধরে হাতুড়ি দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। হাতুড়ির আঘাতে তাকে পঙ্গু ও গুরুতর আহত করেছে। পাঁজর, হাঁটু, কনুই, কব্জি, কোমর ও বাহুতে আঘাত করলে অধ্যক্ষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় আসামিরা অফিসের র্যাকে থাকা কাগজপত্র তছনছ ও টেবিলের ড্রয়ারে রক্ষিত কলেজের ও বেতনের আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার বলেন, ‘মামলা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
হামলার শিকার অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, কলেজের সাবেক সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম খানের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসীদের নিয়ে কলেজে ঢুকে সুমন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না পেয়ে তাকে হাতুড়িপেটা করে ডান পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, কলেজের বাইরে মোটরসাইকেলের পথরোধ করে ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মঞ্জুরুল ইসলাম ও রসায়ন বিভাগের প্রভাষক রেজাউল হককে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যরা ভয়ে গোলাবাড়ি এলাকায় গিয়ে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে, এ হামলায় জড়িত থাকায় জেলা শ্রমিক লীগ মঙ্গলবার বিকালে সুমনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা আজম খান ও সুমন তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।








