পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারী হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া তিন মামলার মধ্যে দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া দুই মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য নেন জেলা ও দায়রা জজ আবু মনসুর জিয়াউল হক। একইদিনে আরেক মামলার অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পিপি আমিনুর রহমান জানান, হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া দুই মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এসময় আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, খলিলুর রহমান ও হারেস আলী উপস্থিত ছিল।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় গুলিতে আহত হন মঠের সাধু গোপাল চন্দ্র রায়। এ ঘটনায় যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ দেবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আর দেবীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও দু’টি মামলা করেন। ২০১৬ সালের ১৬ জুন দুই মামলায় ১০ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। পরে ১৪ নভেম্বর এ দুই মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন করেন।
সূত্র আরও জানায়, দুই মামলার ১০ আসামির মধ্যে চার জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাধন রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়, সাদ্দাম হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ঢাকা মেট্রিপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল রাজশাহীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এবং শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান ময়মনসিংহে র্যাবের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়। রানা নামে অন্য এক আসামি এখনও পলাতক। দুই মামলার চার্জশিটভুক্ত বাকি চার আসামি হলো, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব, রমজান আলী, আলমগীর হোসেন, হারেজ আলী ও খলিলুর রহমান। তারা এখন কারাগারে রয়েছে।







