ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা মিয়ানমারে পুঁজিবাদের নিদর্শন দেখছি। এই গণহত্যার নিকৃষ্টতম অস্ত্র হচ্ছে গণধর্ষণ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নারীরা গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিশু। তাদের বাবা-ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। মাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। গণধর্ষণ পুঁজিবাদের চরিত্র।’ শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নগরীর ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সমাপনী দিনের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শোষণমুক্ত সমাজ ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ধারাবাহিক কর্মসূচির পালন করে অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ।
তিনি আরও বলেন, ‘৭১ সালে আমাদেশের দেশে হানাদাররা গণহত্যা ও গণধর্ষণ করেছে। কারণ তারা পুঁজিবাদের প্রতিনিধি ছিল। মিয়ানমারে যেটা হচ্ছে সেটা আরও নিকৃষ্ট। তারা আরও বেশি পুঁজিবাদী। সেখানে শুধু সামরিক বাহিনী গণধর্ষণ করছে না, তারা জনসাধারণকেও লেলিয়ে দিয়েছে। সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষ মিলে গণধর্ষণ করছে। আমাদের লজ্জা ও বেদনার বিষয় হলো এখন আমাদের দেশেও গণধর্ষণ হচ্ছে।’
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসে কখনও গণধর্ষণ দেখি নাই। শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদাররা করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে গণধর্ষণ হচ্ছে-সেটা পুঁজিবাদের নিকৃষ্টতম উদাহরণ। পুঁজিবাদের দীক্ষা ও আদর্শ হচ্ছে দুর্বলের প্রতি সবলের নির্যাতন। বিলুপ্ত ডায়নোসরের মতো পুঁজিবাদেরও পতন হবে। পতন হবে ঐতিহাসিক কারণে, পতন হবে বৈজ্ঞানিক কারণে, পতন হবে মানবিক কারণে। পুঁজিবাদের সমস্ত সম্পদ শতকরা ৫ জনের হাতে। শতকরা ৫ জন নিয়ন্ত্রণ, নিপীড়ন ও শোষণ করছে ৯৫ জন মানুষকে। পুঁজিবাদের বিকল্প পুঁজিবাদ হবে না, হবে সমাজতন্ত্র। পুঁজিবাদীরা প্রকৃতিতে যেভাবে ধ্বংস করছে, সেই প্রকৃতিই প্রতিশোধ নেবে। তার লক্ষণও আমরা চারদিকে দেখছি। আমরা দেখছি জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা ও আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। এই সবই হচ্ছে পুঁজিবাদের কারণে।’
অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক রথীন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উদযাপন পরিষদের সদস্য রফিউর রাব্বি, জেলা সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য জাকির হোসেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল।
মহাসমাবেশ শেষে বিশাল বণার্ঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় থেকে বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর দুই নং রেলগেইট থেকে নগরীর চাষাঢ়া গোল চত্বর হয়ে খানপুর মেট্রো সিনেমা হল মোড়, কালিরবাজার, দুই নং রেলগেইট দিয়ে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
আরও পড়ুন: আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ








