বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রসহ ছয় জনকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) সকালে এক বাসা থেকে এদের আটক করার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো হলো-পাঁচটি ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ব্লুটুথ ইন্ডাকসন (ইয়ারফোন), পাঁচটি এটিএম কার্ড, এন্টি-জ্যামার ইলেট্রনিক ডিভাইস এবং ১৩টি সিমসহ ১১টি মোবাইল সেট।
শনিবার দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দফতরে আয়োজিদ এক সাংবদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানান, সকাল ৭টায় নগরীর আরশেদ আলী কন্ট্রাক্টর গলির নাহার ম্যানসন থেকে এদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মারুফ হোসাইন মারুফ (২২); মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আলমগীর শাহিন (২৪) ও গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মাহামুদুল হাসান আবিদ (২৩)। এ তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের শহীদ বরকত ভবনের ৪০১, ৩০১ ও ৩০২ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতর ঘটনায় সিআইডি’র তালিকায় মারুফ হোসাইন মারুফের নাম আছে বলেও জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ তিন জন ছাড়া আটক অন্য তিন জন হলো- গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সাব্বির আহমেদ প্রিতম (২৩), মোহাম্মদপুর ডিগ্রি কলেজের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রাকিব আকন (২১) ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুয়ীদুর রহমান বাকি (২২)।
আটক ছয় জনের মধ্যে মারুফের বাড়ি যশোরে। অপর পাঁচ জনের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়।
পুলিশ জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের হোতাদের বরিশালে এনে নিজের ভাড়া বাসায় রেখেছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুয়ীদুর রহমান ওরফে বাকি (২২)।
পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই সুক্ষ্ম ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্ন বলে দেওয়া যায় এবং বাহিরে থেকে উত্তর বলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’
আটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র মো. মারুফ হোসাইন মারুফের ব্যাপারে সিআইডি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে মহানগর উপ-কমিশনার উত্তম কুমার দাস, সহ-কমিশনার নাসিরউদ্দিন মল্লিক ও পরিদর্শক কাজি মাহবুবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। একটি প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের ফাঁদ পেতে ও প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করে থাকে।’ তিনি নিজে এবার সরাসরি প্রশ্ন তৈরি ও বিতরণের তদারকি করেছেন বলে দাবি করে আরও বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে জ্যামার বসিয়েছেন। তাই প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’







