বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিদ্রোহী প্রার্থীকে মারপিট করে মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়।
জানা গেছে, সমিতির নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও দেউলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন।
আরও জানা গেছে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক ও জাহিদুল ইসলামসহ চার জন মনোনয়নপত্র তোলেন। কিন্তু আজিজুল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ জন্য সোমবার সকাল থেকেই উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আশপাশে দলীয় নেতাকর্মীদের পাহারায় বসান। ফলে তাদের বাধায় কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন নি।
স্থানীয়রা জানান, বিকাল ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গেলে সভাপতি আজিজুল হক সমর্থিত দলীয় ক্যাডাররা তাকে বাধা দেন ও মারপিট করে মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউসিসিএ চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হকের নির্দেশে তার ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে আমার মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে ফেলেছে।’
তবে এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আজিজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ে কে বা কারা তাকে লাঞ্ছিত করেছেন, তা আমার জানা নেই। তবে আমার সমর্থকদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।’
শিবগঞ্জ ইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অফিস চত্বরে প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেনি। তবে শুনেছি কে বা কারা মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছে।’
ইউসিসিএ লিমিটেডের কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে এক জন ও পরিচালক পদে চার জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় শিগগিরই নির্বাচিতদের নাম বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।’
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদ মাহমুদ খান বলেন, ‘সকাল থেকেই ইউসিসিএ কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকাল ৩টার দিকে পরিষদের বাইরে কে বা কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনও অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







