দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামে শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে। আর শীতের আগমনে ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। দিনের বেলায় সূর্যের প্রখর উপস্থিতিতে তাপমাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও রাতে হালকা কুয়াশার প্রভাবে তাপমাত্রা কমছে। ফলে রাতে শরীরে লেপ-কাঁথা কিংবা কম্বল জড়াতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষজন। আর শীতের আগমনে সন্ধ্যা থেকেই রাস্তার পাশে বসছে ভাপা পিঠার দোকান।
কুড়িগ্রামের কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বেলা ১১টায় তা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়।
এদিকে শীতের আগমনে জেলার ধনুকর ও পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। রাস্তার পাশের স্বল্প মূল্যের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, শীতের তীব্রতা না থাকায় এখনও বেচা-বিক্রি জমে উঠেনি।
শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকার খুচরা কাপড় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রেতারা শীতের কাপড় দেখছেন কিন্তু শীতের তীব্রতা না থাকায় কিনছেন না। মেহের আলী নামে এক কাপড় বিক্রেতা বলেন, ‘অন্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা কম। তাই বিক্রিও কম। সামনে শীতের তীব্রতা বাড়লে বিক্রি বাড়তে পারে।’
বাবু নামে এক কাপড় বিক্রেতা বলেন, ‘ঠাণ্ডা কম, ক্রেতারাও খুব বেশি আসছেন না। তাই বেচাকেনাও কম।’
শহীদ মিনার সংলগ্ন ভ্রাম্যমাণ মার্কেটে কাপড় ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘রাতে বেশ শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে। সামনে শীতের তীব্রতা বড়তে পারে তাই আগেভাগেই শীতের কাপড় কিনতে হচ্ছে।’
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা মনিষা ও নূর ইসলাম বলেন, ‘দিনের বেলায় শীত অনুভূত না হলেও সন্ধ্যার পর বেশ ঠাণ্ডা পড়ছে।’
অন্যদিকে শীতের আগমনী বার্তায় ধুনুকরদের দোকানে লেপ তৈরির হিরিক পড়েছে। সারাদিন লেপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধনুকররা। জেলা শহরের পুরাতন বাজার এলাকার ধনুকর সফিকুল বলেন, ‘প্রতিদিন ৭-১২টি লেপ তৈরি করতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা আরও বাড়তে পারে।’
শহরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সামনের মার্কেটের ধনুকর লোকমান বলেন, ‘শীতের আগমন উপলক্ষ্যে প্রতিদিন নতুন লেপ তৈরির অর্ডার পাচ্ছি। আগামী এক-দুই মাস কাজের চাপ বাড়তে থাকবে।’
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক এএইচএম মুফাখখারুল বলেন, ‘দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমে শীতের তীব্রতা বাড়বে।’
আরও পড়ুন:
যাত্রাবাড়ী থেকে দুই জঙ্গি গ্রেফতার







