রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এসময় নিয়ম ভঙ্গ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থীর সমর্থকরা ব্যাপক শোডাউন করে।
এদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ২১১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৬৫ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
এর আগেই একে একে সেখানে পৌঁছান সাত মেয়র পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগের সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু, বিএনপির কাওছার জামান বাবলা, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহারিয়ার, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের গোলাম মোস্তফা, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, এলডিপির মো. শামিম। এ সময় নিয়ম ভঙ্গ করে ঝন্টু ও মোস্তফার সমর্থকরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক শোডাউন করে। উভয়পক্ষ মুখোমুখি হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় মাইকযোগে বারবার প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনও ধরনের শোডাউন না করার আহ্বান জানানো হলেও তা কেউ মানেনি।
পরে নির্বাচন অফিসের সভাকক্ষে ৭ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার।
নির্বাচন কার্যালয় থেকে যাওয়া সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ঝন্টু গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ‘রংপুরের ছাওয়াল’ বলে সস্তা বুলি আওড়িয়ে এখানকার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছে। কিন্তু এবার নৌকা মার্কার জোয়ার এসেছে। আশা করি, আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হবো।’ পরে জাপার প্রার্থী মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনে যেমন এরশাদ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন, আশা করি এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো।’
বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই মেয়র প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আজ যা দেখালেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।’ এজন্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান তিনি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন এই প্রার্থী।
বিদ্রোহী প্রার্থী জাপার কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ শাহারিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দল মূল্যায়ন করেনি বলেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি।’ দল থেকে বের করে দেওয়া হলে তারই ভালো হবে বলেও মন্তব্য করেন এরশাদের এই ভাতিজা। নির্বাচনে বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবি আংশিক সমর্থনের কথাও জানান তিনি। তবে সেনাবাহিনী না থাকলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশা তার।







