ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নবজাতক বদলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। নবজাতক ওয়ার্ড থেকে তাদের ছেলের বদলে মেয়ে নবজাতক দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। সোমবার রাতের এই ঘটনা নিয়ে নবজাতকের স্বজনরা হাসপাতালের ‘নবজাতক ওয়ার্ড’ ও ওই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের প্রাইভেট চেম্বারের সামনে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ও পুলিশে উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলে ময়মনসিংহ সদরের বাদেকল্পা গ্রামের মনোয়ার হোসেন মনুর স্ত্রী পাপিয়া আক্তার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি সন্তান প্রসব করেন। এসময় তার ছেলে হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। তবে নবজাতক কান্না না করায় ও তার শ্বাসকষ্ট থাকায় ওইদিন বিকেলেই শিশুটিকে ‘নবজাতক ওয়ার্ডে’ ভর্তি করা হয়। সোমবার ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে ছুটি দেওয়ার সময় পাপিয়ার কোলে একটি মেয়ে শিশু তুলে দেওয়া হলে তিনি তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ছেলে শিশুর দাবিতে সন্ধ্যায় বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেনের চরপাড়া প্রাইভেট চেম্বারের সামনে বিক্ষোভ করে নবজাতকের স্বজনরা। পরে তিনি হাসপাতালে ছুটে আসলে ওই শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ও অন্য রোগীর স্বজনরা নবজাতক ওয়ার্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
অন্যদিকে শিশু বদলের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে মা পাপিয়া আক্তারকে আহাজারি করতে দেখা যায়। পাপিয়ার জানান, নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তির পর থেকে তার ছেলেকে আর দেখতে দেওয়া হয়নি। ছেলেকে না নিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে যাবেন না।
শিশুর বাবা মনোয়ার হোসেন জানান, এটাই তাদের প্রথম সন্তান। সন্তান প্রসবের জন্য পাপিয়াকে এই হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সন্তান প্রসবের পর তাদের ছেলে হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়।
তিনি আরও জানান, তার স্ত্রীর হাসপাতালের ভর্তি টিকেটেও ছেলে সন্তান প্রসবের কথা লেখা আছে। ছেলে সন্তান হওয়ায় তিনি এলাকাবাসীকে মিষ্টিও খাইয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তার ছেলে শিশু বদলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্বাভাবিক ডেলিভারি হওয়ার পর নবজাতকটি কান্না না করায় এবং শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
মায়ের ভর্তি টিকেটে ছেলে শিশুর কথাও লেখা আছে স্বীকার করে তিনি আরও জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ১৭৫টি শিশুকে ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ১১৭টি শিশু ভর্তি আছে। এসব শিশুর সঙ্গে বদল হয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে না পাওয়া গেলে নবজাতক ও অভিভাবকের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
নবজাতক বদলের বিষয়টি সমাধানের জন্য হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিশুর পরিবারের সঙ্গে মধ্য রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের কতদন্ত মিটি গঠন করা হবে।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য গ্রেফতার







