গত তিন দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশায় দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর ও রিকশা, ভ্যানচালকদের জন্য এই সময়টা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে কাজ কমে যাওয়া পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, নিতান্ত প্রয়োজনে ঘর থেকে বেরও হচ্ছেন না কেউ। সারাদিনে দেখা মিলছে না সূর্যের। অন্যদিকে, শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা।
এদিকে, শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকলে আলু ও গমসহ রবিশস্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ রঙ ধারণ করতে শুরু করেছে। অনেকেই বীজতলা পলিথিনে ঢেকে রেখেছেন।
পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার পৌর এলাকায় ১৭টি বস্তি রয়েছে। বস্তির অসহায় দরিদ্র মানুষেরা শীতবস্ত্রের জন্য পৌরসভায় ভিড় করছেন। যে সামান্য বরাদ্দ পেয়েছি, তা অনেক আগেই বিতরণ করা হয়েছে। এখনও আরও অনেকেরই শীতবস্ত্র প্রয়োজন।’
শীতের তীব্রতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোপও বেড়েছে। পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পঞ্চগড় শীতপ্রবণ এলাকা। শীতকালে এমনিতেই শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি রোগ এই সময়ে বেশি দেখা যায়। বর্তমানে হাসপাতালের ১০০ বেডেই রোগী ভর্তি রয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক ফজলে রহমান জানান, শনিবার (৬ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
পঞ্চগড়ে শীতার্ত মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। আগামীকাল (রবিবার) থেকে অফিস শুরু করব। তবে শীতের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি অবগত। শৈত্যপ্রবাহ চলছে। শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শীর্তাত মানুষের কষ্ট লাঘবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকসহ অন্যরা।
আরও পড়ুন-
কুঠিবাড়ি ও লালনের মাজার পরিদর্শন করলেন রাষ্ট্রপতি
শিক্ষকের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন








