কোতোয়ালীসহ যশোরের ৮ থানায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৮১ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে ৯০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
যশোর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মুখ না খুললেও বিভিন্ন থানার ওসিরা আটক ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানিয়েছেন, বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের ৮১ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এরমধ্যে যশোর সদরে ১০, মনিরামপুরে ৮, কেশবপুরে ১৬, ঝিকরগাছায় ১৪, শার্শায় ৯, অভয়নগরে ১৫, বাঘারপাড়ায় ৯ জন নেতাকর্মী রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালী থানায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৯০ জনকে। এরমধ্যে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শামসুদ্দোহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার মনিরামপুর থানার এসআই তপন কুমার এবং এসআই এনামুল হক বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এতে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকর্মীকে আটক করে। বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ মামলা করেছে।
ঝিকরগাছা থানার ওসি মেহেদি মাসুদ জানান, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও নাশকতার অভিযোগে তিনটি মামলায় ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটক রয়েছে ১৫ জন।
অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। এতে আসামি ৬৮ জন। আটক করা হয়েছে ৭ জনকে।
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪২ জনকে। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবসহ ১৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে বাঘারপাড়া থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন বাঘারপাড়া থানার এসআই সুধাংশু কুমার মিত্র। বাঘারপাড়া থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করা হয়েছে। অন্য আসামি গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
বেনাপোল থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার অভিযোগে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
শার্শা থানার ওসি এম মসিউর রহমান জানান, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ২২ জনকে। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।








