দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে খায়রুল ইসলাম নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ওই তরুণের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও তিন জনকে পুলিশ আটক করেছে। চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারেসুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক।
আটক খায়রুল ইসলাম (২৫) চিরিরবন্দর উপজেলার গলাহার গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। খায়রুলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ীই পরে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, আজ এসএসসি ও সমমানের গণিত পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগেই খায়রুল ইসলাম চিরিরবন্দর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে স্মার্টফোনের মাধ্যমে গণিত পরীক্ষার হুবহু প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহের চেষ্টা করে। এসময় চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী তাকে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন। তিনি খায়রুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরীক্ষা শুরুর পর দেখা যায়, খায়রুলের মোবাইলে পাওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু এক।
ওসি হারেসুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আটক খায়রুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর এর সঙ্গে জড়িত আরও তিন জনের নাম জানা গেছে। তাদের দিনাজপুর শহর থেকে আটক করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রের সবাইকে আটকের জন্য আমরা অত্যন্ত তৎপর।’ তদন্তের স্বার্থে পরে আটক তিন জনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
প্রশ্নফাঁসের এ ঘটনায় চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় পরীক্ষা শুরুর আগে উপজেলার গোয়ালডিহি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একই পদ্ধতিতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।








