পঞ্চগড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে অন্যের খাতা দেখতে নিষেধ করার জেরে সিনিয়র শিক্ষককে থাপ্পড় মেরেছে এক এসএসসি শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পরীক্ষার পর পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ঘটনাটি ঘটে। শামিমুর হাসান সাগর নামের ওই পরীক্ষার্থী পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জেলা শহরের জালাসীপাড়া মহল্লার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
কেন্দ্র সচিব ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন এবং পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। কেন্দ্রের ২০৩ নম্বর কক্ষে শামিমুর হাসান সাগর পাশের আরেক পরীক্ষার্থীর খাতা দেখে লিখছিল। এ সময় দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক ও পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হকিকুল ইসলাম তাকে অন্যের খাতা দেখে লিখতে নিষেধ করেন এবং পাশের শিক্ষার্থীকে দূরে সরিয়ে দেন।
পরীক্ষা শেষ হওয়ায় কিছু আগেই বের হয়ে সাগর কেন্দ্রের বাইরে তার সহপাঠী ও বন্ধুদের একত্রিত করে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে থেকে বের হওয়ার সময় কেন্দ্রের মূল ফটকের কাছে শিক্ষক হকিকুল ইসলামকে আটকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার গালে থাপ্পড় মারে। পরে তারা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও কক্ষ পরিদর্শক হকিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেয়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা আমাদের চড়াও হয়, হুমকি দেয়। বৃহস্পতিবার আমি পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করার সময় অন্য পরীক্ষার্থীর খাতা দেখতে নিষেধ করায় কেন্দ্রের সামনেই ওই পরীক্ষার্থীসহ তার সহপাঠীরা আমাকে আটকে গালাগালি করে। এক পর্যায়ে সাগর নামের ওই পরীক্ষার্থী আমাকে থাপ্পড় মারে।’
পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব রেখা রাণী দেবী বলেন, ‘আমরা ওই পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি এবং পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনাটি সিসি ক্যামেরাতেও রেকর্ড হয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু অন্য কেন্দ্রের, এজন্য এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই জানি না। তবে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের কাছে শুনেছি। একজন শিক্ষার্থীর এমন আচরণ অবশ্যই দুঃখজনক। আমরা তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়েছি। শিক্ষককে লাঞ্ছিতকারী শিক্ষার্থীর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’








