বগুড়ার ধুনট উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর তৌফিকুল ইসলামকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে গ্রেফতার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদার ফেরদৌস আলম শ্যামলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাতে তাকে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর বুধবার (২৮ মার্চ) আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. এরফান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ঠিকাদার শ্যামল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবার সরবরাহের ঠিকাদার ছিলেন। ২০১৬ সালের মে মাসের এক লাখ ৫৪ হাজার টাকার বিল বকেয়া রয়েছে তার। ওই বিলের জন্য মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে তিনি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের যান। বিল নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অডিটর তৌফিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে শ্যামলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে তৌফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করলে শ্যামলকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
ঠিকাদার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শ্যামলের অভিযোগ, অডিটর ওই বিলের অনুমোদন না দিয়ে তাকে হয়রানি করে আসছেন। বিল ছাড় করাতে ঘুষও দিতে হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে হিসাবরক্ষণ অফিসে গেলে আবার তাকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন অডিটর তৌফিকুল ইসলাম।
শ্যামল বলেন, ‘বিল হাতে পাওয়ার পর ঘুষের টাকা দিতে চাইলে অডিটর বলেন, বরাদ্দ নেই; পরে দেওয়া হবে। এ নিয়ে তার সঙ্গে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তবে তাকে লাঞ্ছিত বা মারপিট করার কোনও ঘটনা ঘটেনি।’
ঠিকাদার শ্যামলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে অডিটর তৌফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে তাকে পরে আসতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন, এক পর্যায়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।’
ধুনট থানার ওসি এরফান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা হলে ঠিকাদার শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন-
প্রেমের টানে ফিলিপাইনের তরুণী কুড়িগ্রামে
৫৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, আ.লীগ-বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা







