দায়িত্বে অবহেলা এবং গ্রাহক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলী হোসেনসহ চার কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লালমনিরহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম ও সমিতির বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনা তদন্তের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক অফিস আদেশে গত ৩ এপ্রিল এই পাঁচ জনকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আলী হোসেন ছাড়া বরখাস্ত বাকি চার জন হলেন— নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আসাদুজ্জামান, এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) মো. খোরশেদ-উল-আলম, লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) আমজাদ হোসেন ও ভুরুঙ্গামারী এরিয়া অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) মো. বাজলুল কালাম। অফিস আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট উপজেলার সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও ঘটনার তিন দিন পরও বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে আসেনি।
চার দিন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকার পর নাগেশ্বরী উপজেলার একজন গ্রাহক গত সোমবার (২ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সর্বশেষ খবর জানার জন্য সমিতির নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করেন। ফোন রিসিভের দায়িত্বে থাকা লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) আমজাদ হোসেনের সঙ্গে ওই গ্রাহকের কথা কাটাকাটি হয়। এ অবস্থায় ওই গ্রাহক তার সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীর দুর্ব্যবহারের বিষয়টিসহ পল্লী বিদ্যুতের সাম্প্রতিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কর্তব্যে অবহেলার ঘটনা তার পরিচিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান।
ওই কর্মকর্তা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সার্বিক অবস্থা অবহিত করেন। তিনি বিষয়টি জানার পর পরিচয় গোপন রেখে নাগেশ্বরী জোনের ওই অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করলে এলটি আমজাদ হোসেন ফোনে তার সঙ্গেও অসদাচরণ করেন। এরপর বিষয়টি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন অতিরিক্ত সচিব। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত দেন আরইবি চেয়ারম্যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগছিল। গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা মেরামতে টেকনিশিয়ানরা কাজও করছিলেন। তবে এরই মধ্যে একজন গ্রাহকের সঙ্গে লাইন টেকনিশিয়ানের ফোনালাপের জের ধরে পাঁচ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লালমনিরহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অফিস আদেশের মাধ্যমেই ওই পাঁচ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার (৪ এপ্রিল) থেকে আমি সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।’
আরও পড়ুন-
নরসিংদীতে ৩ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৯ জনের








