রাঙামাটির নানিয়ারচরে ছয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে রাঙামাটি পৌরসভার সামনে, ভেদভেদী পুলিশ চেক পোস্ট, বাংলাদেশ টেলিভিশন স্টেশন রাঙামাটি উপকেন্দ্র এলাকা ও মানিকছড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নানিয়ারচর উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়জনকে হত্যার পর খুনিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গাড়ি থামিয়ে দেহ ও গাড়ি তল্লাশি করছে পুলিশ। এছাড়া অবৈধ গাড়ি ধরা ও সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
ভেদভেদী পুলিশ চেক পোস্ট’র ফাঁড়ি ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘নানিয়ারচরে ছয় হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে দেহ ও গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে।’
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি সতজিৎ বড়ুয়া বলেন, ‘জনসাধারণের নিরাপত্তা জোরদার করতে এই ব্যবস্থা। তল্লাশির নামে যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় সেদিক বিবেচনা জন্য নির্দেশ দেওয়া আছে।’ নানিয়ারচরে ছয় খুনের আসামিরা শহর আছে এবং শহর তারা শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছে এমন কোনও তথ্য পুলিশের কাছে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর ঘটনা হওয়ার কারণে সব কিছু এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সবকিছু মাথায় রেখেই এই তল্লাশি।’
উল্লেখ্য, গত ৩ মে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শীর্ষনেতা শক্তিমান চাকমা। পরদিন (৪ মে) তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নানিয়ারচরের বেতছড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তের ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিত)’র আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জন নিহত ও ৮ জন গুলিবিদ্ধ হন। এদিকে, বুধবার ইউপিডিএফ সভাপতিসহ ১১৮ জনকে আসামি নানিয়ারচর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন শক্তিমান চাকমা হত্যার সময়ে আহত রুপম চাকমা ও তপন জ্যেতি চাকমাসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় আহত অর্চিন চাকমা।
আরও পড়ুন-
রাঙামাটিতে ছয় খুন: ১১৮ জনের নামে থানায় অভিযোগ
শক্তিমান-তপনজ্যোতি হত্যার নেপথ্যে নানিয়ারচরের নিয়ন্ত্রণ!








