রংপুর বিভাগে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর ১২ দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৬ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় ‘বেশ কয়েকজন’ মাদক ব্যবসায়ী গুলিতে আহত হয়। পাশাপাশি এসব ঘটনায় পুলিশের ৩০ সদস্যও আহত হয়েছেন।
বুধবার (৬ জুন) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর রেঞ্জের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুখ এসব তথ্য জানান।
ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেন, ‘যারা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে, তারা সবাই তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের সবার বিরুদ্ধে ১৫-২০টি করে মাদক আইনে মামলা রয়েছে।’
ক্রসফায়ারে কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হয়নি দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে অপারেশন পরিচালনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘অভিযান শুরুর পর রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এক হাজার তিনশ’ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে এক হাজার ৬৪টি। ২১৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।’
খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেন, ‘রংপুর বিভাগে মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চলছে, একজন মাদক ব্যবসায়ী অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় এ যুদ্ধ চলবে।’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘এ অভিযানের ব্যাপারে কোনও ধরনের অনিয়ম-গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’
ডিআইজি বলেন, ‘আমি প্রত্যেক জেলার এসপি ও থানার ওসিদের বলেছি মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করতে। এক্ষেত্রে কোনও শিথিলতা সহ্য করা হবে না। অভিযানের সময় কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি বলেন, ‘কোনও পুলিশ সদস্য যদি মাদকসেবী হয় এবং টেস্টে ধরা পড়ে, তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আর মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তা করলে বা মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে, তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’
সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি কোনও পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য মাদক ব্যবসায় সহায়তা করে বা মাদক সেবন করে, তাদের নাম-ঠিকানা আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এরপর দেখবেন আমি তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিই।’
সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের উত্তর ডিআইজি বলেন, ‘আমরা প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করার পর সেটা যাচাই করেই অভিযান পরিচালনা করছি।’
এর আগে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসিসহ সব থানার ওসিদের সাথে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এ সময় দুই অতিরিক্ত ডিআইজি বছির উদ্দিন ও ফারুখ আহাম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।








