সাগর ও নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে এখনও ইয়াবার চালান ঢুকছে বাংলাদেশে। সারা দেশে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়াবা বেচাকেনা কিছুটা কমলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশকিছু চালান জব্দ করেছ্নে। এ মাসেই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয় দেড় লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সদস্যরা।
টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, ‘টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা ইয়াবাসহ চোরাচালান রোধে রাত-দিন টহল দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ইয়াবার চালানও উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। এ মাসে (জুন) দুই পাচারকারীসহ ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তা অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেকাংশে কম।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গত ২৫ মে সাবরাং ইউপির সদস্য আক্তার কামাল ও ২৭ মে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. একরামুল হকসহ চারজন নিহত হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১ কোটি ৭২ লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছেন বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
প্রশাসন ও স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী হয়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবার চালান। টেকনাফকে বলা হয়ে থাকে ইয়াবার ট্রানজিট। দেশের যেকোনও জায়গার চেয়ে টেকনাফে কম দামে মেলে ইয়াবা। মাদক ব্যবসায়ীরা তাই টেকনাফে এসে এসব মাদক নিয়ে যাচ্ছেন। পান-সুপারি-লবণবোঝাই ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। সীমান্তে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে প্রতিদিন ছোট-বড় ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। তবে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদক পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিমত স্থানীয়দের।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘এখনও ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। ইয়াবাকারবারীদের বাড়িতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের চেয়ে ইয়াবা পাচার অনেক কমে গেছে।’
আরও পড়ুন- ভোলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত








