শেরপুরে বিস্ফোরক মামলায় জঙ্গি আবুল কাশেমের ২১ বছরের কারাদণ্ড

শেরপুর প্রতিনিধি
২৭ জুন ২০১৮, ১৯:০০আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ১৯:১০

আবুল কাশেম ওরফে আবু মোসাব (ছবি- প্রতিনিধি)

শেরপুরে বিস্ফোরক মামলায় নব্য জেএমবির সদস্য আবুল কাশেম ওরফে আবু মোসাবকে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ জুন) দুপুরে শেরপুরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এম. এ নূর আসামির উপস্থিতিতে বিস্ফোরক আইনের ৪নং ধারায় ১৪ বছর ও ৫নং ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের ভারপ্রাপ্ত আইনজীবী (পিপি) অরুণ কুমার সিংহ রায় এ খবর নিশ্চিত করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কাশেম (২২) শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের হুজুরীকান্দা গ্রামের মৃত ছাফিল উদ্দিনের ছেলে।

পিপি অরুণ কুমার সিংহ রায় জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশে শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পর্দাথ মজুদ করে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি। ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর বিস্ফোরক তৈরির ওই গোডাউনের সন্ধান এবং সেখান থেকে নাইট্রিক এসিড, সালফারিক এসিড, ক্লোরোফর্ম, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, ট্রেট্রাহাইড্রোফুরান ও ডাইক্লোমেথিনসহ বিস্ফোরক তৈরির প্রায় ৬শ’ লিটার পদার্থ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ঘটনায় ৭ অক্টোবর নকলা থানায় গোডাউনের ভাড়াটে আবুল কাশেম (২২) ও ফয়েজ উদ্দিন (৩৩) এবং গোডাউন মালিক মিনারা বেগমসহ (৩২) অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৫/৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার হয় প্রধান আসামি আবুল কাশেমসহ অন্যরা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবুল কাশেম নিজেকে নব্য জেএমবির সদস্য বলে দাবি করে এবং তার সাংগঠনিক নাম আবু মোসাব বলে জানায়। পরবর্তী সময়ে আবুল কাশেম বিস্ফোরক মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। ওই সময় আবুল কাশেম আদালতকে জানায়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে নব্য জেএমবির অপতৎপরতার সঙ্গে সে যুক্ত হয়ে পড়ে।

পিপি অরুণ কুমার সিংহ রায় আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুর রহমান তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একপর্যায়ে আবুল কাশেম জামিন পেলেও ফের গ্রেফতার হয়ে ওই মামলায় কারাগারে যায়। চলতি বছরের ৮ মার্চ ওই মামলায় আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচারিক পর্যায়ে সংবাদদাতা বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞসহ ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত বুধবার এ রায় দেন।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের