আমদানিকারকরা দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে প্রায় একমাস ধরে আটকে থাকা চাল ট্রাক থেকে খালস করে বন্দরের গোডাউনে নেওয়ায় ভারতীয় ট্রাক চালকরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে দুই দিন বন্ধ থাকার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে আমদানি রফতানি চালু হয়েছে। বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি কার্যক্রম চালু হওয়ায় বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে আমদানি-রফতানি শুরু হয়। দুই দিন বন্ধের কারণে ভারত অভ্যন্তরে আটকে থাকা পেঁয়াজ কাচামরিচ বোঝাই ট্রাকগুলোও বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
ভারতীয় ট্রাক চালকরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বুধবার রাতে তাদের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারকদের একটা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা আটকে থাকা চালগুলো খালাসের জন্য চারদিন সময় চান। এর পর রাতেই বন্দরের শেডে কিছু ট্রাকের চাল খালি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও চাল খালাস করা হচ্ছে। এ কারণে ভারতীয় ট্রাক চালকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মামুনুর রশীদ লেবু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে চাল খালাস না হওয়ায় বন্দরে আটকে থাকা ভারতীয় ট্রাকচালকরা চাল খালাসের দাবিতে গত ৩/৪ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। তারা দুই দিন বন্দর দিয়ে কোনও ট্রাক প্রবেশ করতে দেননি। বুধবার রাতে আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম সেখানে আটকে পড়া ট্রাকগুলো থেকে চাল খালি করে নেওয়া হবে। তারা যেন বিশেষ করে ভারতে আটকে থাকা পেঁয়াজ ও কাচামরিচসহ অন্যান্য পণ্য ঢুকতে দেয় সেই অনুরোধও জানিয়েছিলাম। গতকাল রাতেই কিছু ট্রাক থেকে চাল খালাস করা হয়েছে এবং আজ সকাল থেকে চাল খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেই মোতাবেক তারাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় বন্দর দিয়ে সকাল থেকে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘শুল্ক জটিলতার কারণে আমদানিকারকরা চাল খালাস না নেওয়ায় গত এক মাস ধরে বন্দরে চাল খালাস কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একারণে বন্দরে আটকে থাকা ভারতীয় ট্রাক চালকরা বন্দরের শূন্যরেখায় গিয়ে অবরোধ করে রেখেছিলেন। এতে করে দুদিন ধরে বন্দর দিয়ে কোনও গাড়ি ঢুকতে পারেনি। এ নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে ভারতীয় ট্রাকচালক, বন্দর কর্তৃপক্ষ, আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বন্দরে আটকে থাকা ট্রাকগুলো থেকে চালগুলো খালাসের সিন্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক গতকাল রাতে কিছু ট্রাক থেকে বন্দরের গোডাউনে চাল খালাস করা হয় এবং আজ সকাল থেকেও তা অব্যাহত আছে। আজ সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়াও বন্দরের ভেতরে লোড আনলোডসহ বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে।’
আরও পড়ুন- হিলি স্থলবন্দরে আটকে পড়া ট্রাক থেকে চাল খালাস শুরু








