কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার। মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) দুপুরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি মানহানি মামলার বাদী। ঘটনার দিন রবিবার (২২ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত আমরা আদালত চত্বরে অবস্থান করি। পরবর্তীতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে আদালত চত্বর ত্যাগ করি। তারপরে জানতে পারি আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে মাহমুদুর রহমানের ভাড়া করা পুরাতন প্রাইভেট কারটি ভাঙচুর করে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই ছাত্রলীগ জড়িত নয়। জামায়াত-বিএনপি নিজেদের রাজনৈতিক দ্বন্দের জেরে ছাত্রলীগকে ফাঁসাতে এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
ইয়াসির আরাফাত তুষার আরও দাবি করেন, ‘বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মাহমুদুর রহমানকে আদালত চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যান। তারপর দুর্বৃত্তরা মুখে গামছা বেঁধে হামলা চালায়।’
ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু আদর্শের সৈনিক। ছাত্রলীগ কখনও মুখে গামছা বেঁধে হামলা করে না। এটা বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের।’
এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘হামলায় তো বিএনপির কোনও নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীকে আহত হতে দেখা যায়নি। এটাই প্রমাণ করে নির্বাচন সামনে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির মামলা করেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার। সেই মামলায় রবিবার (২২ জুলাই) মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করে স্থায়ী জামিন দেন। ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে মামলায় জামিন পেয়ে বের হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমান হামলার শিকার হন।
আরও পড়ুন- কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা








