নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকারী সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছেন হানিফ পরিবহনের বাসচালক জালাল, সুপারভাইজার ফয়সাল ও বাসচালকের সহকারী জনি। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, বাসের ধাক্কায় পায়েল গুরুতর আহত হন। পরে তিনি মারা গেছেন ভেবে চালকসহ বাকিরা তাকে পানিতে ফেলে দেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
গত সোমবার (২৩ জুলাই) সকালে এনএসইউ’র বিবিএ পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত ২১ জুলাই গ্রামের বাড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে হানিফ পরিবহনের বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পায়েল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পথে রাত ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় গিয়ে জ্যামে পড়ে বাসটি। এ সময় বাস থেকে প্রস্রাব করার জন্য নিচে নামেন পায়েল। এরপর থেকে পায়েলকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এই ঘটনায় পায়েলের স্বজনেরা বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলে জানান ওসি। পরে সোমবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসি হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘তদন্তের সূত্র ধরে প্রাথমিকভাবে বাসচালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীকে সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।’
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, ‘ছেলেটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়। বাসচালক ও সুপারভাইজার মনে করে ছেলেটি মারা গেছে। কিন্তু তখনও সে আসলে মারা যায়নি বলে আমরা সন্দেহ করছি। মারা গেছে ভেবেই তারা ছেলেটিকে পানিতে ফেলে দেয়।’
বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রেস কনফারেন্স করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।
আরও পড়ুন- নিখোঁজের দু’দিন পর নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর লাশ মুন্সীগঞ্জ থেকে উদ্ধার








