আগামী সেপ্টেম্বর মাসে খুলনার আধুনিক রেলস্টেশন উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগস্ট মাসের মধ্যে স্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। একইসঙ্গে ৬টি ট্রেন ঢুকবে এবং বের হবে এমন ব্যবস্থা থাকছে এ রেলস্টেশনে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এমপি গত বুধবার দুপুরে রেলস্টেশনটি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, আধুনিক রেলস্টেশন চালু হলে খুলনার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত রেলযোগাযোগ আরও সহজ হবে। সেই সঙ্গে ভারতীয় যাত্রীদের খুলনা স্টেশনেই ইমিগ্রেশন ও চেকিংসহ সব ভ্রমণ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। ভাড়া কমানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ ও সহজ যাত্রার দ্বার উন্মোচন করা হবে।
সংসদ সদস্য মিজান বলেন, আরও আগেই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এ স্টেশনটি চালু হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দেরি হওয়ায় খুলনার মানুষ কিছুটা হতাশ হয়েছেন। তবে সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্টেশনটি আরও দৃষ্টিনন্দন ও এর সৌন্দর্য বাড়ানোর লক্ষ্যে হাউস বিল্ডিং ভবনটি সরিয়ে ফেলা হবে। এ স্টেশন থেকেই বাংলাদেশ-ভারত নিরাপদ রেল যোগাযোগের মূল সেতুবন্ধন তৈরি হবে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জিএম মুজিবুর রহমান বলেন, কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান মডার্ণ ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড প্লানার্সের ডিজাইনে ক্রটি থাকার কারণেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে দেরি হয়েছে। এ কারণে কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। আগস্টে শতভাগ কাজ শেষ হলে সেপ্টেম্বরে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্টেশনটি চালু করা সম্ভব হবে। ২০০৯ সালে আমদানি করা স্লিপার কিছুটা পুরাতন হওয়ায় তাতে ত্রুটি ধরা পড়ে। তবে ত্রুটিপূর্ণ স্লিপার পরিবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ দখলদারদের বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত খুলনা রেলস্টেশনের বদলে একটি আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণের দাবি ছিল খুলনাবাসীর। এর আগে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় খুলনা রেলস্টেশন নির্মাণকাজে শুরুতেই দেরি হয়। কয়েকবার দরপত্র জটিলতাসহ নানা কারণে সময়ক্ষেপণ হয়। এরপর আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণকাজ ২০১৫ সালের এপিলে শুরু হয়। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করতে না পারায় দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়। এর ফলে নির্মাণ ব্যয় ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পে নতুন পানির ওভার হেড ট্যাংকি যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে যায়। এরই মধ্যে কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের ডিজাইনে ত্রুটির কারণে নির্মাণাধীন ২ নম্বর প্লাটফর্মের ছাদে ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটিকে কালোতালিকাভুক্ত করে বুয়েটের প্রকৌশলীদের পরামর্শে প্লাটফর্মের ছাদের দুই দিকে নতুন করে বিম নির্মাণ করা হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নতুন রেলস্টেশনটি তিনতলা। প্রথম তলায় স্টেশন ভবনে থাকছে ৬টি টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় থাকছে স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়েটিং রুম, ফাস্টফুড এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় থাকছে রেলওয়ের প্রকৌশলীদের অফিস কক্ষ। এ স্টেশনে একইসঙ্গে ৬টি ট্রেন প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। থাকছে সিটিং ব্যবস্থা, সিসি ক্যমেরা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। স্টেশন চত্বরে থাকছে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।








