নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার হাটপাটাকাঠা গ্রামের প্রভাবশালী অমল সরকারের (৩২) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গ্রাম্য সালিশে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে অবশেষে নওগাঁ আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবার। গত ৭ জুলাই উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের হাটপাটাকাঠা গ্রামে ধর্ষণচেষ্টার ওই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটপাটাকাঠা গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি অমল সরকার (৩২)। একই গ্রামের দরিদ্র এক গৃহবধূকে (২৬) বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল সে। গৃহবধূর স্বামী দরিদ্র হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছিল না।
গৃহবধূ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে অমল সরকার ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় আমার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন অমল পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমার স্বামী গ্রাম প্রধানদের কাছে বিচার চাইলে পরদিন সালিশ বসে। সালিশে আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। গ্রাম প্রধানরা ওই কাগজে নিজেদের মতো লিখে তিন দিন পর একটা কপি আমাকে দেন। তাতে লেখা ছিল, ওই দিন কোনও ধরনের ঘটনা ঘটেনি, যা অভিযোগ করা হচ্ছে তা অমল সরকারকে ফাঁসানোর চক্রান্ত।
তিনি বলেন, সুবিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অমল সরকারকে আসামি করে ১২ জুলাই নওগাঁ আদালতে মামলা করি। গত মঙ্গলবার মহাদেবপুর থানার এসআই আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে গিয়ে মামলাটি তদন্ত করেন।’
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘১২ বছর আগে একই গ্রামে আমরা দুজন নিজেদের সিদ্ধান্তে বিয়ে করি। এরপর পর থেকে গ্রাম প্রধানরা আমার শ্বশুরের পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত অমল ও গ্রাম প্রধানরা কোনও কথা বলতে রাজি হননি।
এসআই আব্দুর রউফ বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। কয়েকজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখনই ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত করে কিছু বলা যাবে না।’
সফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বাচ্চু বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে কাউকে একঘরে করে রাখার কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমি বেশ কিছু দিন ঢাকায় ছিলাম। তাই ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টি জানি না।’
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘একঘরে রাখার বিষয়টি সঠিক না। তারা নিজেরাই তেমন কারও সঙ্গে মিশে না। তবে তাদের বাড়ির একটি মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।’








