বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপি- জামায়াত, তথা দক্ষিণপন্থী জোটকে হালাল করার চেষ্টা হচ্ছে। গণতন্ত্র রক্ষার আড়ালে প্রশস্ত করা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় আনার পথ। গণতন্ত্র নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজন সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদের বিরোধিতা। অতীত ও চলমান সময়ে এ ধরনের অপ-তৎপরতার সঙ্গে যুক্তদের নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ভোট ও ভাতের অধিকারকে রক্ষা করবে না।’
বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) বিকালে যশোরের বাঘারপাড়া পাইলট হাইস্কুল মাঠে বাঘারপাড়া উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে উন্নয়ন ও সমতা প্রতিষ্ঠার শক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টি ও ১৪ দল এই ধরনের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই নির্বাচনে তাদেরই ভোট দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তি ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় আজ যুদ্ধাপরাধীদের দলভুক্ত করে তাদের সমাজ ও প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এটি ১৪ দলের নীতি পরিপন্থী, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পরিপন্থী। আগামী নির্বাচনে এ ধরনের ব্যক্তিকে যেমন মনোনয়ন দেওয়া হবে না, তেমনি চালাকি করে কেউ মনোনয়ন বাগাতে পারলেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের মাঠ দখল করে হাট বসানো, শিক্ষক নিয়োগে লাখ লাখ টাকা আদায়, এমপিওর নামে টাকা আদায় –এসবই সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়, জনগণ তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলে। এসবের বিরুদ্ধে লাগাতার সংগ্রাম চলছে, চলবে।’
ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া টিআরএম প্রকল্প বাতিল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শুধু ঠিকাদারি মুনাফার জন্য এ অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ বিপন্ন হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে টিআরএম প্রকল্প চালুর দাবি জানাই।’
ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, হাফিজুর রহমান এমপি, অনিল বিশ্বাস, জাকির হোসেন হবি, নজরুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান ভিটু, বিথীকা বিশ্বাস, অ্যাড. আবু বকর সিদ্দিকী, ইউনুস তালুকদার, অনুপ কুমার পিন্টু, বিপুল বিশ্বাস, শ্যামল শর্মা প্রমুখ।







