কুমিল্লার চান্দিনায় বালুবোঝাই একটি ট্রাক দুটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে দুই কলেজ ছাত্রীসহ তিন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। বুধবার (১০ অক্টোবর) চান্দিনার গোবিন্দপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ময়নামতি থানার ওসি মাহবুবুর রহমান এ খবর নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন দেবিদ্বার উপজেলার প্রেমু গ্রামের আব্দুল ওহাবের মেয়ে পপি আক্তার (১৭), একই গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে মরিয়ম আক্তার মুনমুন (১৬)। তারা উভয়ই চান্দিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অন্যজন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আবদুর রহিমের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার লাভলী (২৮)।
আহতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রাসেল (২৫), ময়নামতির ফরিজপুর এলাকার আব্দুল কাইয়ূম (৩৫), সামছুল হুদা (৪৫), মনোহরগঞ্জের সামছুল হুদা (৪৫), নিহত লাভলীর স্বামী আবদুর রহিম (৪০), লাভলীর স্বজন আবদুল মান্নান (২৫), মান্নানের ছেলে রাফিদ (৫) ও মেয়ে রাইসাসহ (৭) আরও ৪ জন।
আহত সামছুল হুদা জানান, তিনি চান্দিনা বাসস্টেশন থেকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠেন। ওই মাইক্রোবাসে কলেজ ছাত্রীসহ আরও অন্তত ১০ জন ছিলেন। গোবিন্দপুর স্টেশনে যাত্রী নামানোর জন্য গাড়িটি থামলে পিছনের একটি মাইক্রোবাস এটিকে ওভারটেক করে। এ সময় বালুবাহী একটি ট্রাক দুই মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মনোহরগঞ্জের সাংবাদিক নঈম আজাদ জানান, দুবাই প্রবাসী স্বামী আবদুর রহিমকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন লাভলী। পথে দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।
ময়নামতি থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘একটি বড় মাইক্রোবাস চান্দিনা থেকে ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছিল। অপরটি ঢাকা থেকে মনোহরগঞ্জ যাচ্ছিল। মাইক্রোবাসের যাত্রী নামানোর সময় পিছন থেকে ট্রাক ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে লাভলী আক্তার নিহত হন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর পপি আক্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুনমুন মারা যায়। বাকিদের কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ট্রাকটি আটক করা সম্ভব হয়নি।’








