সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গতকাল সংলাপ শুরু হয়েছে। সংলাপ ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আগামীকাল (৩ নভেম্বর) জেলহত্যা দিবস, তাই কাল সংলাপ হবে না। ঐক্যফ্রন্টের ড. কামালের নেতৃত্বে মির্জা ফখরুল, রব এসেছিলেন। সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে খোলামেলা পরিবেশে আলোচনা হয়। কেউ কেউ ২-৩ বার বক্তব্য রেখেছেন। ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা চাইলে আবারও আলোচনা হতে পারে। দূরত্বটা বহু দিনের। টানাপড়েনের ক্ষেত্রে ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্টের মতো সেনসিটিভ কিছু ইস্যু আছে। ২১ আগস্ট বিএনপির আমলে নৃশংস ঘটনা ঘটে। বেগম আইভি রহমানসহ ২২টি প্রাণ ঝরে গেছে। এরপরও আমরা কম্প্রোমাইজ করেছি।’
শুক্রবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের দোগাছি এলাকায় পদ্মা সেতুর ভিজিটরস সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সংলাপের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। অপজিশন কীভাবে রিয়েক্ট করে এটা তাদের ব্যাপার। আমি তো মনে করি না এখানে ব্যর্থতার কিছু আছে। শুরুটা ভালো হয়েছে। তাদের সাত দফার তিনটি বিষয়ে আমাদের কোনও বাধা-আপত্তি থাকবে না। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন এ বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। দীর্ঘদিনের লং গ্যাপ, ডিস্টেন্সকে রাতারাতি ম্যাজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন সম্ভব না, ক্লোজ করাও সম্ভব না। কিন্তু গতকাল কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলা আছে, ক্রিমিনাল অফেন্স ছাড়া শুধু রাজনৈতিক কারণে, তাহলে আমার কাছে তাদের তালিকা পাঠাতে বলেছি। এই তালিকা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একজন প্রধানমন্ত্রী অপজিশনের সঙ্গে সংলাপ করছেন। এটি বাংলাদেশে নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা দলের লোকজন এই বিষয়টি ভাবতে পারিনি। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত ছিল বিএনপির ব্যাপারে, থাকাটাও খুব স্বাভাবিক। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আমাদের সবার আস্থা আছে নেত্রীর ওপর। তিনি যা করবেন জাতীয় স্বার্থে করবেন। তিনি নিজের ওপর অপমান, তার জীবননাশের চেষ্টা- এগুলো ভুলে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে, গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা যদি চান ছোট পরিসরে আবারো আলোচনা হতে পারে। এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর শেখ হাসিনা ছেড়ে দিয়েছেন। তারা যদি চান তাহলে আমাদের জানাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার দরজা খোলা, তারা যদি আবার আসতে চান।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকারীকে তারা পুরস্কৃত করে এবং পঞ্চম সংশোধনী করে হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ করে। তারপরও আমরা পলিটিক্স করি, যেখানে একটি ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা আবশ্যক। কোকোর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা ছুটে গিয়েছিলেন তার মা বেগম জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু সেখানে মূল ফটক-ভেতরের দরজা বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী অপমানজনকভাবে ফিরে এলেন। বেগম জিয়া দেখা করলেন না। শুধু দেখা করাই নয়, দরজাই বন্ধ করে দিলেন। সেখান থেকে সম্পর্কের তিক্ততা কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে এবং আমাদের আচ্ছন্নতা কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে! ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট নিয়ে তিক্ততা, বিরক্তির বিষয় ঘটে গেছে।’
আরও পড়ুন- স্থায়ী সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর আ. লীগের








