শিক্ষকদের ওপর ছাত্রদের হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ৬১ জন শিক্ষক তৃতীয় কর্মদিবসেও মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তদের সমর্থনে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের এক শতাধিক শিক্ষকও ক্লাস বর্জন করেছেন। আজ সোমবারের মধ্যে দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এই দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ থেকেও সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।
বেতন বৈষম্যের অবসান, বর্ধিত বেতন স্কেল বহাল ও নারী শিক্ষকসহ শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। একইসঙ্গে শিক্ষকদের ওপর হামলার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রক্টর প্রফেসর ড. খালেদ হোসেন, ছাত্র ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. তরিকুল ইসলাম ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমের বহিষ্কার দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
শিক্ষকদের ওপর হামলা ও বেতন বৈষম্যের সমাধান চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং শিক্ষকদের সম্মানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৬১ জন শিক্ষকের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রেস ব্রিফিং করে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শতাধিক শিক্ষক। এ সময় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. হারুন-অর রশিদ ও প্রফেসর ড. এটিএম সফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সোমবারের মধ্যে দাবির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ থেকেও সরে আসবেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষকদের দাবির ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না বলেও অভিযোগ করেন এই দুই শিক্ষক। একইসঙ্গে তারা ছাত্রী নির্যাতনকারী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছয় দফা দাবির বাস্তবায়ন কামনা করেন।
বর্তমানে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকদের সংখ্যা এক শতাধিক বলে জানান প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সদস্য সহকারী অধ্যাপক শাহীন আলম। আর গত বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করছেন আন্দোলনরত ৬১ শিক্ষক। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৩ শিক্ষকের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক আন্দোলনে রয়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ১১ অক্টোবর রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু পদোন্নতি দেওয়া হলেও পদ অনুযায়ী বর্ধিত বেতন দেওয়া হচ্ছিল না ৬১ জন শিক্ষককে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ও কারণ জানতে গত বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কক্ষে প্রবেশ করেন ৬১ জন শিক্ষক। কথা চলাকালীন সময়ে সিনিয়র শিক্ষকরা তাদের ধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন। এরপর কিছু ছাত্র সিনিয়র শিক্ষকদের ইঙ্গিতে তাদের লাঞ্ছিত করে ও মারধর করে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা ও বর্ধিত বেতন দেওয়ার দাবিতে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের নেতৃত্বদানকারী সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় জানান, দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরে যেতে হলে অবশ্যই তাদের বেতন-বৈষম্য দূর করতে হবে এবং যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষকদের আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে হাবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেমের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






