যশোর-৩ (সদর) আসনে মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই আমাদের নৌকার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদকে বিপুল ভোটে পাস করিয়ে আনতে হবে। ১৯৭১ সালে যেমন পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি, এবারও তাদের দোসরদের হারিয়ে আমরা বিজয় লাভ করবো ইনশাল্লাহ।
তাদের দাবি, নৌকা না পাস করলে বিএনপি-জামায়াতচক্রের প্রথম আক্রোশ পড়বে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপরই।
বুধবার বেলা ১১টায় শহরের কাজীপাড়ায় ‘কাজী শাহেদ সেন্টারে’ যশোর জেলার তৃণমূল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাজী নাবিল আহমেদের মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলার সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে আমাদের তিনশ’ টাকা করে ভাতা দেন, যা এখন দশ হাজার ছুঁয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা এই যে সম্মানী পাচ্ছেন, তা শেখ হাসিনারই অবদান।
বিএনপি-জামায়াত দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, এবারের নির্বাচনে যদি ওই চক্র ১৫২ সিট পায়, তাহলে প্রথম রাতেই তারা মুক্তিযোদ্ধা ও নৌকা মার্কার কর্মীদের ওপর চড়াও হবে। আমরা কেউই বাঁচতে পারবো না।
তারা বলেন, নৌকা হারলে দেশে ৭১-এর পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা ফের পাকিস্তান বানানোর পাঁয়তারা করবে। এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। কেননা, তারা ৭২-এর সংবিধান মানে না; জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না।
মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের চাওয়া ছিল একটি সোনার বাংলা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের সেই সোনার বাংলা গড়তে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, জামায়াত আর বিএনপি লোকচক্ষুর আড়ালে ঐক্য করলেও আজ তারা ঘোমটা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। তাদের সরাসরি এই বন্ধুত্বের ফলে এবার ধানের শীষ নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামতে পেরেছে মুক্তিযুদ্ধের এই বিপক্ষ শক্তি।
তিনি বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নামে একাত্তরের পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে শোষণ করেছে। তাদের সময়ে জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই, গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী বোম হামলা, খুন, লুটতরাজ হয়েছে। দেশকে দুর্নীতিতে করা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।
গত ১০ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশ্বনেতৃবৃন্দ হতবাক হয়ে যান। সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে এসব সফলতার রহস্য কী–এমন প্রশ্ন করেছেন সেসব দেশের প্রধানরা। আমাদের একটাই উত্তর, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও সঠিক নেতৃত্বই এর কারণ। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী মানেই কৃষিতে উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সূচকে উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ একটি গণতান্ত্রিক দলে নেতৃত্ব পেতে শুভ প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমার প্রতি আপনাদের কারও কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কারও ক্ষোভ নেই, নৌকার প্রতিও কারও রাগ নেই। সে কারণে এই ১৮টি দিন আপনারা একটু কষ্ট করে নিজ নিজ এলাকায় নৌকার জন্যে ভোট প্রার্থনা করেন। তাহলে জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব; তাকেই আরেকবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমরা পাবো।
মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা আবুর হোসেন, ইয়াকুব আলী, গোলাম মোস্তফা, হৈবতপুর ইউনিয়ন কমান্ডের মো. আলাউদ্দিন, ইছালি ইউনিয়নের নূরুল হক বীর বিক্রম, ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন, লেবুতলা ইউনিয়নের নিকমল হোসেন, কাশিমপুর ইউনিয়নের লুৎফর রহমান, নওয়াপাড়া উপশহর এলাকার আব্দুল খালেক প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।







