লালমনিরহাটের ৩টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে জমজমাট প্রচারনা চালিয়েছেন।
লালমনিরহাট-১ আসনে (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। পাশাপাশি বাউরা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও হাতীবান্ধায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাসান রাজিব প্রধান বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে পাটগ্রাম তারকনাথ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন। এছাড়াও এই আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মেজর (অবঃ) খালেদ আখতার, মশাল প্রতীকে জাসদের(ইনু) ছাদেকুল ইসলাম, আম প্রতীকে এনএনপির আব্দুস ছাত্তার, টেলিভিশন প্রতীকে বিএনএফের আলমগীর হোসেন মুরাদ ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।
লালমনিরহাট-২ আসনে (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি তুষভান্ডারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষন দেন। অপরদিকে বিএনপির রোকন উদ্দিন বাবুল বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এছাড়া এই আসনে আম প্রতীকে এনএনপির শরিফুল ইসলাম, হারিকেন প্রতীকে মুসলিম লীগের বাদশা মিয়া ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খান বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে(সদর) জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও মহাজোটের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে স্থানীয় মহাজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ করেন। তাছাড়া ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীরা লাঙ্গলের মিছিল করে। অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি কুলাঘাট ও মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় ভাষণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন। এছাড়াও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোকছেদুল ইসলাম ও মই প্রতীকে বাসদের আজমুল হক পুতুলও শেষ দিনে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটান।
জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, ‘লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মহাজোটের শরিক দলের নেতাকর্মীদেরকে ভোটের ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত সকল দিকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে এবং ভোট দিতে পারলে ধানের ধীষের প্রার্থীরা ৩টি আসনেই জিতবে। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফলাফল নিজেদের পক্ষে রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
লালমনিরহাট-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী ভোটের ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতে কোনও ভোটকেন্দ্রে কাউকেই বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা শফিউল আরিফ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে লালমনিরহাটে প্রচার-প্রচারণার পর্দা নামলো। কোথাও তেমন উল্লেখযোগ্য সংঘাতের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।’








