চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে মন্ত্রিপরিষদসহ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সাড়ে তিন ঘণ্টার এই সফরে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ছাড়াও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে তার।
গত ৭ জানুয়ারি বিকালে টানা তৃতীয় দফায় সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে পরদিন ৮ জানুয়ারি সকালে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ও সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর আজ বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করতে যান তারা।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছুক্ষণ আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। হেলিকপ্টারে তার সফরসঙ্গী ছিলেন বোন শেখ রেহানা। সেখান থেকে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধতে আসেন তারা। এসময় তাদের স্বাগত জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল প্রমুখ।
এরপর জাতির জনকের সমাধি সৌধতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দোয়া ও মোনাজাতে বেশ কিছুক্ষণ সময় পার করেন দুই বোন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু ভবনে বোন শেখ রেহানাসহ নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও শেখ জুয়েল তার চাচাতো ভাই, আর শেখ তন্ময় প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা হন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অন্য আত্মীয়রাও সেখানে ছিলেন।
এদিকে, দুপুর দেড়টায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের বহনকারী বাস টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছালে তাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আবারও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কবর জিয়ারত করে ফাতেহা পাঠ করার পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর টুঙ্গিপাড়ার বাসভবনে আয়োজিত দুপুরের খাবার গ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও বেশ কিছুক্ষণ বঙ্গবন্ধুর কবরের পাশে বসে কোরান তেলওয়াত করেন শেখ হাসিনা।
সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ার বাসভবনে গিয়ে অন্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবারে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, খাবারের মেন্যুতে ৮/১০ রকমের মাছের পদ, ৩/৪ রকমের মাংসের পদসহ, শাক-সব্জি, পিঠা, মিষ্টান্ন ইত্যাদি রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খান।
বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে বাসভবন থেকে বেরিয়ে অদূরের হেলিপ্যাডের দিকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। প্রটোকলের গাড়ি থাকলেও বোনকে সঙ্গে নিয়ে কথা বলতে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যে পায়ে হেঁটেই পথটুকু পাড়ি দেন তিনি। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রী রওনা হওয়ার পর বিকাল ৪টার দিকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও বাসে চেপে ঢাকার পথে রওনা হন।








