লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে রহমতখালী নদীর ওপর নেভিগেশন লকসহ ১৪ ভেন্টের দুটি রেগুলেটর বিকল হয়ে আছে কয়েক মাস ধরে। রেগুলেটর দুটির ২৮টি গেটের বেশিরভাগ গেট বন্ধ থাকায় নদী থেকে পানি খালে প্রবেশ করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পানির অভাবে রোপণ করা যাচ্ছে না ধানের চারা। এতে প্রায় দশ হাজারো কৃষক পড়েছেন বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমের বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রেগুলেটর দুটির মোট ২৮টি গেট আছে। মূল রেগুলেটরের ১৪ গেটের মধ্যে দুটি ছাড়া বাকি ১২টি বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। পুরনো রেগুলেটরের ১৪টি গেটই বন্ধ। এর মধ্যে তিনটি ভেঙে গেছে। জোয়ারের সময় গেট খুলতে না পারায় রহমতখালী খালে পানি ঢুকতে পারে না। ভাঙা গেট দিয়ে কিছু পানি প্রবেশ করলেও ভাটার টানে ফের নদীতে চলে যায়। ভরা মৌসুমে পানির অভাবে জমিতে লাঙল দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলার প্রায় দশ হাজারেরও বেশি কৃষক, ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের উৎপাদন।
বোরো মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির ওপর ভরসা করে আবাদ করেন। বিগত বছরগুলোর মৌসুমের এমন সময় পানির প্রয়োজন হলে রেগুলেটরের গেটগুলো খুলে দেওয়া হতো। মেঘনার জোয়ারের পানি রহমতখালী খাল হয়ে আশেপাশের বিভিন্ন খালে ঢুকতো। পর্যাপ্ত পানি আসার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হতো। কিন্তু চলতি মৌসুমে রেগুলেটরের বেশিরভাগ গেট বন্ধ থাকায় পানি প্রবেশ করতে পারছে না। যে কারণে কৃষক এখন বিপাকে।
জেলার সদর উপজেলার দালাল বাজার এলাকা, দক্ষিণ হামছাদী, ভবনীগঞ্জের চর উভুতি ঘুরে দেখা গেছে, খালে পানি নেই। বোরো রোপণ করতে পারছেন না বেশিরভাগ কৃষক। কেউ কেউ বিকল্প উপায়ে পুকুর-দীঘি থেকে পানি নিয়ে চারা রোপণের চেষ্টা করছেন।
রেগুলেটর বিকল হয়ে ভোগান্তিতে পড়া চাষিরা জানান, বোরো মৌসুমে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার আগে-পরে চার থেকে পাঁচদিন জোয়ার আসে। ওই জোয়ারের পানি খালে ঢুকলে সে পানি পাম্প দিয়ে ক্ষেতে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় সবগুলো গেট বন্ধ থাকায় পানি খালে পৌঁছায় না।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর, কালির চর, চর উভুতি, ভবানীগঞ্জ, জকসিন, মিরিকপুর, উত্তর জয়পুর, দত্তপাড়া, তেওয়ারীগঞ্জ, কুশাখালীসহ জেলার পূর্বাঞ্চল এবং কমলনগর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক পানির অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছেন না।
কুশাখালী কৃষি উন্নয়ন সমিতির সভাপতি ও সেচ পাম্পের মালিক জাহের আলম জানান, ‘পানি না পেয়ে কৃষকরা হতাশ। পানির অভাব না মিটলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বেন।’
মজুচৌধুরীরহাট রেগুলেটরের গেট অপারেটর মো. ফয়েজ জানান, ‘দুটি রেগুলেটরের ২৮টি গেটের মধ্যে ৫টি ভেঙে গেছে। বাকি ২৩টি গেটের ওঠানামার তার ছিঁড়ে গেছে। যে কারণে গেটগুলো খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক মাস আগেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েক মাস আগে জানিয়েছি।’
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি আগেই। কিন্তু বাজেট না থাকার কারণে আমরা কাজ করতে পারিনি। ইতোমধ্যে আমরা বাজেট পেয়েছি। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু করতে পারবো।’








