নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপির সামাজিকতা ও সৌজন্যতা হারিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা জন্য যে অপচেষ্টা দুনিয়ার গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে করেছিলো সেখানে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দেশে-বিদেশে চিঠি দিয়ে এই নির্বাচনকে অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করার যে অপচেষ্টা চালিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সারা দুনিয়ার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিএনপির একাই শুধু এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।’
শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় কাচঁপুর সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন যদি বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলনে নামে বা এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, জনগণ সাড়া দেবে না। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি একদিকে বিদেশে তাদের বন্ধুহীন করবে, অন্যদিকে দেশের মাটিতে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে চা চক্রের আমন্ত্রণ করেছেন, যারা এর আগে ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন। বিএনপির রাজনীতির এমন নেতিবাচক ধারা সেখানে সৌজন্যবোধও হারিয়ে গেছে।’
বিএনপির উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা কোনও রাজনেতিক দলের জন্য শুভকর নয়। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেল। সেদিন যদি নির্বাচনে অংশ না নিতেন তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পেতে কতটা বিলম্ব হতো তা বলা কঠিন। নিবার্চন ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক অস্তিত্ব বজায় থাকে না। বিএনপির আন্দোলন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ডাকে জনগণ সেভাবে সাড়া দেয়নি। দশটি বছর চলে গেছে কোনও আন্দোলন করতে পারেনি। এখন দেশে আন্দোলনের বস্তগত কোনও পরিস্থিতি নেই। এই অবস্থায় জনগণ কেন বিএনপির ডাকে রাস্তায় নামবে?’
উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সম্পর্কে ওবাদুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নিবার্চনে দেখেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই এতো কমসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। উপজেলা নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে যাতে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় কাচঁপুর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বা মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এই এটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলেই সেতুটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতি সেতুর কাজ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসের দিকে এই দুটি সেতুসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী এক সঙ্গে উদ্বোধন করতে পারবেন।’
মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কাচঁপুর, মেঘনা ও মেঘনা-গোমতি সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান, কাচঁপুর সেতুর ম্যানেজার (এডমিন) নাসির উদ্দিন আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেনসহ অনেকে।







