অনাবাসিক ছাত্রকে বের করে দেওয়ায় হল কক্ষে তালা রাবি ছাত্রলীগের

রাবি প্রতিনিধি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৮আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়ম লঙ্ঘন করে হলে অবস্থান করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হল থেকে এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে সন্ধ্যায় নেতাকর্মীরা হল গেইটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই অনাবাসিক শিক্ষার্থী যে কক্ষে অবস্থান করতেন, সেই কক্ষে তারা তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হল প্রশাসন ও ছাত্রলীগের বিপরীত অবস্থানে ওই সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বিষয়টির সমাধান করেন।

হল থেকে বের করে দেওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম জনি মিয়া। তিনি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। মতিহার হলের ১২০ নম্বর কক্ষে নিয়ম লঙ্ঘন করে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছিলেন তিনি।

হল সূত্র জানায়, হলের ১২০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ইউসুফের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) তিনি হল ত্যাগ করেন। ওই সিটে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নির্দেশে ছাত্রলীগকর্মী মোহন তার সিটে জনিকে তুলে দেন। শুক্রবার বিকালে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থানের খবর পেয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেন। জনি বিষয়টি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জানালে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জমিল সুস্ময় হলের গেইটে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ১২০ নম্বর কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে এসে জনিকে ফের ওই কক্ষে তুলে দেন।

এ বিষয়ে মোহনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘ওই রুমে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে উঠানো হয়। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ পুলিশ নিয়ে এসে সেই শিক্ষার্থীকে বের করে দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে আবার রুমে তুলে দেন।’ তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানা নেই’।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রাধ্যক্ষকে কয়েকবার কল দিই। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।’ ওই শিক্ষার্থীকে ফের হলে উঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী আসগর বলেন, ‘জনি যেহেতু হলে অবৈধ। তাই তাকে বের করে দিয়েছি। পরে প্রক্টর মহোদয় এসে আমার অনুপস্থিতিতে ওই ছেলেটিকে ফের ওই কক্ষে তুলে দেয়। আমি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাবো। কারণ প্রাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও অনাবাসিক শিক্ষার্থী হলে তোলার ইখতিয়ার প্রক্টর মহোদয়ের নেই।’

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান