বান্দরবান সীমান্তে আরও ৪০ বৌদ্ধ শরণার্থীর অনুপ্রবেশ

বান্দরবান প্র‌তি‌নি‌ধি
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৬আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০২

বান্দরবান সীমান্তে বৌদ্ধ শরণার্থীরা বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আরও ৪০ শরণার্থী অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গে‌ছে। বুধবার বিকা‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে। এর আগে ১৬৩টি প‌রিবার বাংলা‌দেশ সীমা‌ন্তের চাইক্ষাং পাড়ায় অবস্থান নেয়। নতুন ক‌রে এ ৪০ জনের প্র‌বে‌শের পর শরণার্থীর সংখ্যা দাড়ালো ২০৩ জনে। বর্তমা‌নে এসব শরণার্থীরা চাইক্ষ্যং পাড়ার কা‌ছে সীমান্ত এলাকায় খোলা জায়গায় ত্রিপল টেনে তাঁবুর মতো করে বসবাস করছে। রেমাক্রী প্রাংসা ইউপি চেয়ারম্যান জিরা বম এসব তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ‘আশপাশের পাড়াগুলো থেকে খাবার দিয়ে এলাকাবাসী সহায়তা করলেও তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগা‌ন্তি‌তে প‌ড়ে‌ছে।’ বান্দরবান সীমান্তে বৌদ্ধ শরণার্থীরা

এদিকে সীমান্তে শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্য‌বেক্ষণ কর‌তে সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি পর্যক্ষেণ টিম পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টহল দল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করছে। বুধবার হেলিকপ্টারে করে এসব সদস্য‌দের রুমার রেমাক্রী প্রাংসা ইউ‌নিয়‌নের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান জানান, ‘সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টিম পাঠানো হয়েছে। শরণার্থীদের মনোভাব জানার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ বান্দরবান সীমান্তে বৌদ্ধ শরণার্থীরা

স্থানীয়ভা‌বে জানা গে‌ছে, গত শনিবার মিয়ানমারের চীন রাজ্য থেকে ১৬৩ জন বৌদ্ধ শরণার্থী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষাং সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান নেয়। এরপর তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বুধবার আরও ৪০ জন সেখানে জড়ো হয়।

ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এর পর থেকে আতঙ্কে খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইনসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সীমান্ত পথে বান্দরবান দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এরমধ্যেই মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় বৌদ্ধ ও হিন্দুসহ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এজন্য সীমান্তে বাড়তি সর্তকতা নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন-

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সতর্ক সীমান্ত


মিয়ানমার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ

/এফএস/
সম্পর্কিত
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিলো ফিনল্যান্ড
রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন‘চারপাশে ছড়িয়ে ছিল কঙ্কাল-খুলি’, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর আরাকান আর্মির হত্যাযজ্ঞ
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী