বনানীর আগুনে নারায়ণগঞ্জের নিহত দুজনের বাড়িতে শোকের মাতম

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০১৯, ১৬:৪৯আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ১৭:০৪

লাশ বুঝে পেয়েছেন পরিবার রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের দুজন ব্যক্তি রয়েছেন। তারা হলেন- নারায়ণগেঞ্জর ভূঁইগড়ের ফজলে রাব্বি ও সোনারগাঁয়ের নবীনগর এলাকার আহম্মেদ জাফর। মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছানোর পর থেকেই তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপাজনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার দুটি।  

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ফজলে রাব্বি। তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করে ২০১৫ সালে আর এফ টাওয়ারের ১২ তলায় অবস্থিত ইউরো ফ্রেড ফরোয়াডিং কোম্পানিতে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তাদের সংসারে প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিহত ফজলে রাব্বী মেজ। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাড়িয়া জেলার নবীনগড় থানার সাতমোড়ায়।

ফজলে রাব্বির ছোট ভাই রিফাত আলম জানান, আগুনের লাগার পর তার ভাই ফজলে রাব্বিকে ফোন দিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার কথা বলেছি। কিন্তু ধোঁয়ার কারণে তিনি বের হতে পারছিলেন না।

ফজলে রাব্বির বাড়িতে থমথমে পরিবেশ

নিহতের বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেয়ে ছেলেকে ফোন করেন তিনি। রাব্বি তাকে জানায়- যে ফ্লোরে কাজ করি, সেখানে আটকা পড়ে আছি। রাস্তা পাচ্ছি না। পরে আবার ফোন করলে রিসিভি করা হলেও সে কোন কথা বলতে পারে নাই। শুধু কান্নার শব্দ শুনেছি। আরও পরে আবারও ফোন করলে রাব্বির ফোনটি অন্য একজন রিসিভি করে বলেন, মর্গে লোক পাঠান। পরবর্তীতে তার বোন জামাই ও ছোট ছেলে রিফাত আলম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। 





ফজলে রাব্বির স্ত্রী সাবিহা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর উপার্জনেই সংসার চলতো। শ্বশুর তো বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ। তাকে (রাব্বিকে) হারিয়ে এখন আমরা কী করবো, কীভাবে আমার ছেলেকে মানুষ করবো তা বুঝতে পারছি না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ফজলে রাব্বির লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। শুক্রবার (২৯ মার্চ) জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে ফজলে রাব্বিকে দাফন করা হয়।  
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সোনারগাঁয় উপজেলার সম্ভপুরা ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় আহম্মেদ জাফর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। তিনি নবীনগরের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। জাফর সোনালী ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মাত্র তিন মাস আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বনানীর এফ আর টাওয়ারের আসিফ এন্টারপ্রাইজের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের প্রধান পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ে বাস করছিলেন। নিহতের ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল মামুন তার চাচার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে